ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কাউন্সিলের সচিব ও শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কখনো হুমকি দেয়া যাবে না। ইরান ও অঞ্চলটিতে তাদের সশস্ত্র মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দেয়া নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ‘পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ‘নিঃশর্তভাবে’ ছেড়ে দিতে হবে।
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন চাইছে অবরোধ তোলার আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি হোক। গত জুনে সই হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা তোলার সময়সূচি ও ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে থাকবে। এ ছাড়া জব্দ সম্পদ নিয়ে আলাদা আলোচনা হবে। চূড়ান্ত চুক্তির জন্য বেঁধে দেয়া ৬০ দিনের সময়সীমা এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে; তবে তা আরও বাড়ানো হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর কথাও জানিয়েছে ইরান। এই জলপথটি ইরান ও ওমানের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণ নিয়ে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করায় প্রণালিটি পুনরায় খোলার বিষয়টি অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মধ্যস্থতাকারী উপসাগরীয় দেশ ওমান একই দিন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ আলোচনা চলছে। জাহাজে হামলার নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই বিবেচিত হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত।
শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযোগ করে, আবুধাবির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি এডনকের একটি জাহাজে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়ার সময় হামলা চালানো হয়েছে। ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার ধারাবাহিকতায় ইরানই এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এডনক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরের এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কোম্পানিটি আরও জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়ার সময় তাদের এক ডজনের বেশি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে একজন ক্রু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এডনক।
পরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং জাহাজ ও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন। এটি এডনকের জাহাজে হওয়া হামলা কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।





