ইরানকে হারানোর পরই হরমুজ প্রণালি হবে মার্কিন ভূখণ্ড—ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালিকে ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে পরাজিত করার পরই এই কৌশলগত জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হবে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া তিনি মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানির উচ্চ দাম মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা উঠে এসেছে।

শুক্রবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গার্ডেন সিটির একটি পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে হারানোর কাজ শেষ করার পর—যেটি এখন খুব বাজেভাবে পরাজিত হচ্ছে আমি খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এটি সত্যি।’

তার এই মন্তব্য গুরুতরভাবে বলা কি না, নাকি তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের মন্তব্য উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তার ভাষ্য, তেহরানকে ‘ভয় দেখানো যাবে না’ এবং কৌশলগত এই জলপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বেই থাকবে।

হরমুজ প্রণালিতে বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ট্রাম্পসহ হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের জন্য গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে সরবরাহ হতো।

ইরানের প্রণালি বন্ধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে দুই দেশ অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে, যার কারণে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্বালানি ও গ্যাসের বাড়তি দাম এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

গার্ডেন সিটির সভায় ট্রাম্প
জনসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নাগরিকদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে বলেন যে ‘একটি অত্যন্ত অশুভ দেশের’ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর মূল্য হিসেবে তাদের জ্বালানির জন্য ‘একটু বেশি’ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি তা কেবল নিজেদের জন্যই নয়, পুরো বিশ্বের জন্য একটি মহান সেবা। আমরা সত্যিই একটি অসাধারণ কাজ করছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘হরমুজে আমাদের অবরোধের মধ্য দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না, যদি না আমরা চাই।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির নাবিকদের বাসযোগ্যতা নিয়ে ওঠা উদ্বেগও শুক্রবার উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে’ থাকা সেনা সদস্যদের স্বজনরা সামরিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই সেনারা কঠিন পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সঙ্গে লড়াই করছেন। এমনকি আত্মহত্যাচেষ্টার ঘটনার তথ্যও এসেছে।

নয় মাস সমুদ্রে থাকা এই রণতরির মিশনের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ট্রাম্প। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, রণতরির এই মোতায়েন ‘যথেষ্ট নয়’। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ‘খুব অনুরূপ’ আরেকটি জাহাজ এসে এটির স্থলাভিষিক্ত হবে।

এএম