শুক্রবার সকালে পুরো কিয়েভজুড়ে বারবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। এর আগের দিনও কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় বিপণিবিতান ও সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। এসব হামলায় কিয়েভের কাছে এবং উত্তরের শহর সুমিতে ইউক্রেনের শীর্ষ বেসরকারি কুরিয়ার সেবা নোভা পোশতার পার্সেল বাছাই কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়া শহরের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, সেখানে রাশিয়ার একটি ড্রোন গৃহসজ্জার সামগ্রীর বড় দোকান এপিসেন্টারে আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কিয়েভ অঞ্চলে ৩৮ বার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখনো আগুন নেভানোর কাজ করছেন। ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশন সেন্টারের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেন, ‘কিয়েভকে অচল করে দেয়ার লক্ষ্যেই শত্রু পক্ষ অল্পসংখ্যক জেট-চালিত ড্রোনের মাধ্যমে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের আকাশপ্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও জনগণকে পরিশ্রান্ত করা।’
ইউক্রেনের সরকারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘন ঘন হামলা ও বিমান হামলার সতর্কতার কারণে ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রায় ১৫ ঘণ্টা কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরের একটি শপিং সেন্টারেও রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ইহোর তেরেখভ। দুই দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে সাম্প্রতিক সপ্তাহে দুই পক্ষই একে অপরের বিপণিবিতান ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। শুক্রবার কিয়েভ অঞ্চলে একটি বড় বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদামও রুশ ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।





