হরমুজে নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা ইরানের; যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি মানলে চালুর ঘোষণা

মাসুদ পেজেশকিয়ান
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের একটি রুটের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। গত জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তবে কৌশলগত এই আন্তর্জাতিক নৌপথ পুনরায় খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে একমত হয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তবে আমরা প্রণালিটি খুলে দেব।’ এই বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকেও অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রণালিটি চালুর শর্ত তুলে ধরে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড়, বিনিয়োগ শুরু এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধসংক্রান্ত তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তবে আমরাও হরমুজ প্রণালি খুলে দেব।’

পেজেশকিয়ান জানান, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এসএনএসসি) এই সমঝোতার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিষদের ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনই এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের আমদানি ও রপ্তানি ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তবে পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকাকালে ইরান প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।

দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এটি আমাদের আগে বুঝতে হবে। বর্তমানে রুটগুলো বন্ধ এবং কোনো পণ্য ঢুকতে পারছে না। পেট্রোলও সেগুলোর মধ্যে একটি।’

পেট্রোলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য তৃতীয় ধাপে প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ১০ হাজার তোমান (প্রায় শূন্য দশমিক ০৫ ডলার) করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। ৫০ হাজার তোমান করার যে গুঞ্জন উঠেছে তা সঠিক নয়। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য তিনি সরকারি পরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল বিদ্যুতায়নের ওপর জোর দেন।

এএম