পুতিন-শি’র বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা; মোদির কণ্ঠে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

সাংহাই কোঅপারেশন সংস্থা এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা
বিদেশে এখন
0

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক জোরদার পুনর্ব্যক্ত করলেন পুতিন ও শি জিনপিং। সাংহাই কোঅপারেশন সংস্থা এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠকে এ কথা জানান দুই নেতা। এদিকে, শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দুই দিনব্যাপী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরানসহ এক ডজনেরও বেশি রাষ্ট্রপ্রধান। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করবেন নেতারা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছর এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর এ শীর্ষ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

চলমান বৈশ্বিক এ অনিশ্চয়তার মধ্যেই চীন ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইনে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে উঠে আসে ইউক্রেন যুদ্ধের ইস্যুও। তবে তাদের মূল আলোচনায় গুরুত্ব পায় দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি নিয়ে।

শি জনপিং বলেন, বেইজিং-মস্কোর সম্পর্ক সামনে আরও উজ্জ্বল হবে। সব ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা সফলভাবে বিকশিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন।

আরও পড়ুন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘বর্তমান এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চীন-রাশিয়ার ব্যাপক অংশীদারিত্ব এবং কৌশলগত সহযোগিতা একটি আদর্শ মডেল হিসেবে কাজ করবে। এ সম্পর্ক বন্ধুত্ব, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, সমতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মতো শক্তিশালী ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, কৌশলগত নির্দেশনা ও যৌথ প্রচেষ্টায় চীন-রাশিয়া সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। দুই দেশের অগ্রগতির এই হবে গতি সমন্বিত। ভবিষ্যতে তা আরও উজ্জ্বল হবে।’

এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন পুতিন। ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে নয়াদিল্লি কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান মোদি। জবাবে পুতিন বলেন, মস্কো একটি সমাধানের পথেই এগোচ্ছে।

এছাড়া, এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের শেষদিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদ দমনে কড়া মন্তব্য করে মোদি বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সংঘাতের অবসান করা উচিত। ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বানও জানান তিনি। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং তাদের আশ্রয়স্থল ধ্বংস করতে হবে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেন শেহবাজ শরিফ।

এ সময় পেজেশকিয়ানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এসসিও সম্মেলনে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিশকেকে ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন নেতারা। নেপাল-তিব্বতে ভয়ানহ দুর্যোগের কারণে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনিপিং। অশ্বারোহী, রথ এবং নাচের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন হলো এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার।

জেআর