ট্রাম্পের চাপের পর অ্যাপল ম্যাপে অন্টারিও হ্রদের নাম করা হলো ‘লেক আমেরিকা’

নাম পরিবর্তনের আগে অ্যাপল ম্যাপে অন্টারিও হ্রদ
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যাপ অ্যাপে অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ করেছে অ্যাপল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের পর মঙ্গলবার এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই দিন অ্যাপলের নির্বাহী জন টার্নাস নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ মেনে নাম পরিবর্তন করা দ্বিতীয় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। এর আগে গত শনিবার গুগল তাদের জনপ্রিয় গুগল ম্যাপে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য হ্রদটির নাম ‘লেক আমেরিকা’ করে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের মানচিত্রে নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে না। তবে এই আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নামসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ভৌগোলিক স্থানগুলোর নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করে। গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মানচিত্র তৈরিতে এই তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সরকারি অনুমোদন ও চুক্তির ওপর নির্ভরশীল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নাম পরিবর্তনে রাজি করাতে প্রেসিডেন্ট সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প গত সপ্তাহে সরাসরি অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাপল ম্যাপে হ্রদটির নাম পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মেনেছে অ্যাপল। এর মধ্যে মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ এবং আলাস্কার ডেনালি পর্বতের নাম ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করা হয়েছে।

অ্যাপল ম্যাপও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুগলের মতো নীতি অনুসরণ করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আল-জাজিরার মন্তব্যের অনুরোধে অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। শনিবার এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছিল, তাদের ম্যাপে ‘সরকারি নথিতে’ থাকা নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা ‘লেক আমেরিকা’, কানাডার ব্যবহারকারীরা ‘লেক অন্টারিও’ এবং অন্য দেশের ব্যবহারকারীরা দুটি নামই দেখতে পান।

তবে ট্রাম্পের করা নাম পরিবর্তন মেনে নেয়নি সব ডিজিটাল ম্যাপ প্রতিষ্ঠান। নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকে জনপ্রিয় থাকা ম্যাপকোয়েস্ট এক পোস্টে এর বিরোধিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, ‘যে নামে ইচ্ছা, নাম দিতে পারেন।’ এরপর প্রতিষ্ঠানটির স্মার্টফোন অ্যাপ অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া বিনা মূল্যের অ্যাপে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ‘লেক আমেরিকা’ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের কিছুদিন আগে দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপর কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমাণ মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছে দেশটি।

অন্টারিও হ্রদটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাঝখানে অবস্থিত। হ্রদটির নাম এসেছে স্থানীয় আদিবাসী ওয়েন্ডাট ভাষা থেকে। তবে ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি ইংরেজিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষা করার উদ্যোগও নিয়েছেন।

এএম