যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার আন্দোলনের পুরোধা গ্লোরিয়া স্টাইনেম, চলে গেলেন ৯২ বছর বয়সে

মহিলাদের অধিকার ও সমতার পক্ষে সোচ্চার গ্লোরিয়া স্টেইনেম
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত লেখক ও নারী অধিকার আন্দোলনের পুরোধা গ্লোরিয়া স্টাইনেম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। স্থানীয় সময় বুধবার তিনি মারা যান বলে আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীদের নাগরিক ও প্রজনন অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন গ্লোরিয়া স্টাইনেম। ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তিনি মার্কিন নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেন এবং একাধিক প্রজন্মের নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি জনপ্রিয় মিস সাময়িকীর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরামর্শক সম্পাদক ছিলেন।

নারী অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্টাইনেমকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেন।

স্টাইনেম ১৯৭১ সালে বেলা আবজুগ, শার্লি চিশম ও বেটি ফ্রিডানের সঙ্গে মিলে ন্যাশনাল উইমেনস পলিটিক্যাল ককাস প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি কোয়ালিশন অব লেবার ইউনিয়ন উইমেন, উইমেনস মিডিয়া সেন্টার, ভোটার্স ফর চয়েস ও মিস ফাউন্ডেশন ফর উইমেনের মতো বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলেন।

মাঝখানে সিঁথি করা সোনালি চুল ও চশমার কারণে স্টাইনেম ছিলেন সমকালীন আন্দোলনের পরিচিত মুখ। সব বর্ণের নারীদের এই লড়াইয়ে যুক্ত করার পক্ষে ছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্কার সাময়িকীকে এক সাক্ষাৎকারে স্টাইনেম বলেছিলেন, ‘বৈষম্যের শিকার হলে মানুষ সব পর্যায়েই তা উপলব্ধি করতে পারে। আমি কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের কাছ থেকেই মূলত নারীবাদ শিখেছি। মূলত অশ্বেতাঙ্গ নারীরাই নারীবাদের সূচনা করেছিলেন।’

১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইওর টলেডোতে জন্মগ্রহণ করেন গ্লোরিয়া স্টাইনেম। তার বাবা ছিলেন ভ্রাম্যমাণ প্রাচীন জিনিসপত্রের ব্যবসায়ী। ঘন ঘন এলাকা পরিবর্তনের কারণে শৈশবে তিনি নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেননি। ১১ বছর বয়সে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর।

স্মিথ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা শুরু করেন স্টাইনেম। ১৯৬৩ সালে শো সাময়িকীর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তিনি টানা ১১ দিন ছদ্মবেশে প্লেবয় বানি হিসেবে কাজ করেন এবং সেখানে নারী কর্মীদের কম মজুরি ও বৈষম্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

১৯৬৮ সালে নিউ ইয়র্ক সাময়িকী প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত মিস সাময়িকীতে গর্ভপাত, লৈঙ্গিক বৈষম্য, সমান মজুরি ও পারিবারিক সহিংসতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়ে তুলে ধরেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দীর্ঘদিন প্রচলিত বিয়ের কাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে ৬৬ বছর বয়সে এসে ২০০০ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ী ডেভিড বেলকে বিয়ে করেন। ডেভিড বেল ছিলেন হলিউড অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেলের বাবা। ২০০৩ সালে মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ডেভিড বেল।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লেখালেখি ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন স্টাইনেম। নারীদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে তৈরি বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি।

এএম