নরওয়ে থেকে মহাকাশে জার্মান রকেট; স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৌড়ে ইউরোপ

জার্মানির ইজার অ্যারোস্পেসের রকেট
বিদেশে এখন
0

ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রথমবারের মতো মহাকাশে বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ করেছে জার্মান স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ইজার অ্যারোস্পেস। নরওয়ের উত্তর মেরু অঞ্চলের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে গতকাল গতকাল (শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর) চালকবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি সফলভাবে মহাকাশের কক্ষপথের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এর মধ্য দিয়ে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে ইউরোপ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মহাকাশে সফলভাবে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘আমরা কক্ষপথে পৌঁছেছি! ইউরোপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি হল।’ এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপীয় মহাকাশ শিল্পের জন্য বড় এক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মিরসেথ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আন্দোয়া থেকে এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারার বিষয়টি এই অস্থির সময়ে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে।’

এর আগে গত মার্চে ইজারের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কারণে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের মুখে মহাকাশ খাতে নিজেদের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোড বহনে সক্ষম স্পেকট্রাম রকেটে পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট ও উড্ডয়নকালীন একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম ছিল বলে জানিয়েছে ইজার। এটি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ। ১৮ মাস আগে তাদের প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের পরপরই সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে এবারের দ্বিতীয় অভিযান সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছায় তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানার কেন্দ্র ব্যবহার করে মহাকাশে রকেট পাঠায় ফরাসি যৌথ উদ্যোগ আরিয়ানগ্রুপ। ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে নিজস্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নরওয়ের পাশাপাশি সুইডেন ও যুক্তরাজ্যও কাজ করে যাচ্ছে। নতুন রকেটের উন্নয়ন ও পরীক্ষা কার্যক্রমের জন্য সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো (২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) তহবিল নিশ্চিত করেছে ইজার। জার্মানির পাশাপাশি কানাডাতেও একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির কাজ চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এএম