ইউক্রেন যুদ্ধে অস্ত্রের সংকট; কম খরচের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ঝুঁকছে ইউরোপ

কেমব্রিজ অ্যারোস্পেসের কারখানায় প্রদর্শিত স্কাইহ্যামার।
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্রের দ্রুত ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন কম খরচে দ্রুত তৈরিযোগ্য ও বড় সংখ্যার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর (হামলা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্র) উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে মহাদেশটির দেশগুলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাশিয়ার নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের মতো শহর রক্ষা করতে গিয়ে ইউক্রেনকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষক ডগলাস ব্যারি জানান, শান্তিকালীন সামরিক পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি। বর্তমান সংঘাত প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে মজুদ থাকা অত্যাধুনিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) গবেষক মার্কাস শিলার জানান, বড় বড় যুদ্ধ জয় করতে কেবল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। এ সংকট মেটাতে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা খাতের নতুন স্টার্টআপগুলো এগিয়ে আসছে। নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যে ডেসটিনাস নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইউক্রেনের জন্য ২৫ কোটি ইউরো ব্যয়ে ৭০০টি রুটা ব্লক ২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আদেশ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারও কেমব্রিজ অ্যারোস্পেসকে স্কাইহ্যামার ইন্টারসেপ্টর তৈরির প্রাথমিক চুক্তি দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতের নির্বাহীরা বলছেন, মার্কিন প্যাট্রিওটের মতো একটি ব্যয়বহুল ব্যবস্থা দিয়ে সস্তা ড্রোন ধ্বংস করা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব। জার্মান কোম্পানি ফ্রাঙ্কেনবার্গের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আন্দ্রেয়াস বাপার্ট জানান, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে একটি হামলা ব্যর্থ করার খরচ ২০ লাখ ইউরোর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে কেমব্রিজ অ্যারোস্পেস আগামী বছরের মধ্যে প্রতি মাসে আড়াই হাজার ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনীয় স্টার্টআপ ফায়ার পয়েন্টও প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের চার ভাগের এক ভাগ খরচে নতুন ইন্টারসেপ্টর তৈরির কাজ করছে।

এএম