ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ পেন্টাগনের, বাড়ছে ক্ষোভ

সমুদ্রে চলমান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ডেকে অবতরণ করছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান
বিদেশে এখন
0

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন (৪ হাজার ৩৬০ কোটি) ডলার খরচ হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া এই খরচের হিসাব মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

পেন্টাগনের আগের জনসমক্ষে প্রকাশ করা ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব থেকে এই খরচ একলাফে অনেক বেড়েছে। নতুন এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত সামরিক পরিচালন ব্যয় বাবদ ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, দ্বন্দ্বে ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং অভিযানে হারিয়ে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এই মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় পেন্টাগন জনসমক্ষে যে সংখ্যার কথা প্রকাশ করেছে, তার চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইল যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর থেকে অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অপর এক কর্মকর্তা এই সংখ্যা ২৩ বলে দাবি করেছেন।

পেন্টাগনের পাবলিক ডিফেন্স ক্যাজুয়ালিটি অ্যানালিসিস সিস্টেমে গত শুক্রবার পর্যন্ত ১৮ জন সেনা নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈরী ও অবৈরী উভয় ধরনের ঘটনায় নিহতের হিসাব রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর কিছু ঘটনা সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত নয়, তবে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনারা এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদারও মারা গেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

পেন্টাগনের হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সেনারাও রয়েছেন। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের মজুত খালি করে ফেলছে, পারস্য উপসাগরের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি করছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এর আগে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও বড় আকারের অভিযান চালানো সম্ভব নয় এবং এটি অন্যত্র হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেসন ক্রো এবং আরও ১১ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য (যারা সবাই সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য) গত শুক্রবার একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এর লক্ষ্য পেন্টাগনকে হতাহতের সরকারি তথ্য নিয়ে কারসাজি করা থেকে বিরত রাখা।

জেসন ক্রো অভিযোগ করেছেন, হেগসেথ যুদ্ধের মানবীয় ক্ষতির বিষয়টি লুকিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, সেনা ও তাদের পরিবারের সঠিক তথ্য পাওয়ার এবং সম্পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পেন্টাগনের হতাহতের সংখ্যা লুকানোর বিষয়টি আগেই তদন্তের মুখে পড়েছে, কারণ যুদ্ধের শুরুতে চারজন সেনা নিহতের তথ্য সাময়িকভাবে সরকারি তথ্যভান্ডার থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতকে অপারেশন এপিক ফিউরির পরিবর্তে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বা বিদেশি অভিযান হিসেবে পুনর্শ্রেণিভুক্ত করে। কংগ্রেসেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই সপ্তাহে সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে হেগসেথকে অভিশংসনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি।

তুর্কিয়া টুডের প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম