লোহিত সাগরে সৌদির তেল স্থাপনা রক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স

France President Emmanuel Macron
বিদেশে এখন
0

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন কেন্দ্র ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা, রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফওয়ান ও ফ্রান্স টুকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা সেখানে সামরিক সরঞ্জাম, অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি। এটি কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং শুধু ওই স্থাপনাটিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প রুট হয়ে উঠেছে ইয়ানবু বন্দর। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে এই স্থাপনাটি, যার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ ফরাসি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে জানান, আসন্ন শীত মৌসুমের জন্য দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ সময় তিনি ডিজেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেন।

সাক্ষাৎকারে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার মতো ঘটনার শিকার ফ্রান্সও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া থেকে ইউরোপকে বিরত রাখতে ভয় দেখানোর কৌশল নিয়েছে মস্কো। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ফ্রান্সের কূটনৈতিক অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে সম্প্রতি। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ায় ইইউর অন্য সদস্য দেশগুলো বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

এএম