হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথগুলো বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের; নিয়ন্ত্রণে অনড় আইআরজিসি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালির যেসব পথ ইরান অবৈধ বলে বিবেচনা করছে, সেগুলো দ্রুতই বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। বুধবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সিকে দেয়া বক্তব্যে আইআরজিসি কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদরেজা নাকদি এই হুঁশিয়ারি দেন। মূলত ওমান উপকূল ঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় পথগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মোহাম্মদরেজা নাকদি দাবি করেন, কৌশলগত এই জলপথের কিছু পাথুরে অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েকটি কৃত্রিম পথ তৈরি করা হয়েছে। এসব পথ দিয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে তেল পাচার করে বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার পশ্চিমা দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

আইআরজিসির এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।’

তবে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল দৈনিক ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ দিন তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ওমান উপসাগরের টার্মিনাল থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের হিসাবও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে রেভল্যুশনারি গার্ডস। আইআরজিসির আরেক উপদেষ্টা মজিদ মিরাহমাদি জানান, সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে যেখানে ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে গড়ে মাত্র ১০টি জাহাজ চলাচল করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। সেপ্টেম্বর মাসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও ট্যাংকারে ধারাবাহিক হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে উচ্চমাত্রার এই সরবরাহ কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

এএম