গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা নাভি পিল্লাই পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার

নাভি পিল্লাই
বিদেশে এখন
0

আন্তর্জাতিক আইন ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারপ্রধান নাভি পিল্লাই। আজ শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রাইডনেস অসলোতে তার নাম ঘোষণা করেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়াসহ সবখানেই সমানভাবে ভূমিকা রেখেছেন ৮৫ বছর বয়সী এই আইনবিদ। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কে এই নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া নাভানেদেম নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শাসনের সময় তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াই করেন। তৎকালীন রবেন দ্বীপে দীর্ঘকাল বন্দি থাকা নেলসন ম্যান্ডেলার আইনি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। বর্ণবাদের অবসান ঘটার পর ১৯৯৫ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে হাইকোর্টে নিযুক্ত করেন।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তিনি শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় গাম্বিয়ার মনোনীত বিশেষ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজা তদন্ত ও ইসরাইলের প্রতিবাদ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক গঠিত গাজা ও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাভি পিল্লাই। তার নেতৃত্বাধীন কমিশন গত বছর এক প্রতিবেদনে জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল।

জার্মানির নুরেমবার্গে আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক এক ফোরামে অংশ নেয়ার সময় নোবেল জয়ের খবর পান পিল্লাই। সেখানে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে যা ঘটছে তা গণহত্যা।’ তার এই পুরস্কার জয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে হামাস কর্মকর্তা বাসিম নাইম জানান, এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি আশার বার্তা।

তবে এই পুরস্কারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘মিথ্যা, ঘৃণা আর কুৎসা রটানোর কোনো পুরস্কার থাকলে নাভি পিল্লাই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বীই হতেন না, সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতেন।’ তারা এই নোবেল জয়কে ইসরাইলবিরোধী বিদ্বেষকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।

পরাশক্তিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও নোবেলের বার্তা নাভি পিল্লাইয়ের এই নোবেল জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি একটি বড় কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়েই পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এছাড়া আইসিসি ও আইসিজের কার্যকারিতা নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র বিরোধিতার মুখেই নোবেল কমিটি পিল্লাইকে এই পুরস্কারের জন্য বেছে নিয়েছে।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রাইডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করার বার্তা দিতেই তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

জয়ের পর রসিকতা করে পিল্লাই বলেন, ‘একজন আইনজীবী ও বিচারক হওয়ায় আমি এখনো এই তথ্যটি যাচাই করে দেখতে চাই।’

এএম