বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। মাধ্যমিক স্তরে অতিরিক্ত বাজেট ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের দাবিতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে এটিই সরকারের প্রথম বাস্তবসম্মত ছাড়। আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের ৮৬ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম।
শিক্ষক ইউনিয়নগুলোর ডাকা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসের বাস্তিল চত্বরেই জড়ো হয়েছিলেন ২৪ হাজার মানুষ। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। অন্যদিকে বোর্দোর একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং মার্সেইতে এক সহকারী প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়।
শুক্রবার দেশটির সাড়ে তিন হাজার উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১৪০টি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা কম। তবে আগামী মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট এবং বদলি শিক্ষক না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হওয়া দীর্ঘদিনের সমস্যা। শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকা ৫০০টি স্কুলে দ্রুত এই ৩ হাজার শিক্ষককে পাঠানো হবে। বিশেষ করে অভিবাসীপ্রধান শহরতলিগুলোর স্কুলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত সময় কাজ করতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের জন্য বাজেট বাড়ানোরও ঘোষণা দেন তিনি।
তবে বড় ধরনের নতুন কোনো বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না থাকায় অসন্তোষ রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রান্সের ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সরকার বড় কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে।
সরকারের এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় ছাত্র সংগঠনগুলো। অপেক্ষাকৃত নরমপন্থি লিসেবিরোধী ইউনিয়নের প্রতিনিধি নাথানেল কম্বারি বলেন, ‘আমরা কিছু ঘোষণা পেয়েছি যা আমাদের দাবির আংশিক প্রতিফলন। কিন্তু মানুষ এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখতে চায়।’ অন্যদিকে উগ্র-বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবাউড-এর ঘনিষ্ঠ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিনিধি সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘যতক্ষণ না আমাদের টেবিলে ১০ বিলিয়ন ইউরো দেওয়া হবে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।’
বিপরীতে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির মুখপত্র লরেন্ট জ্যাকোবেলি এই ছাড়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘এর মাধ্যমে এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে তোমরা ভাঙচুর করলে জিনিসপত্র পাবে। এটি সহিংসতাকে বৈধতা দেয়ার শামিল।’
আগামী ১৭ অক্টোবর দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে একটি সংগঠন। আগামী এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সে এমন বিক্ষোভ সরকারের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।





