রাশিয়ার আক্রমণাত্মক শক্তি ভেঙে পড়েছে; দাবি ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধানের

অঞ্চলে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন এখন স্থিতিশীল হয়েছে এবং ব্যাপক সেনা হতাহতের কারণে রাশিয়ার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। গত গ্রীষ্মে নাটকীয়ভাবে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর গণমাধ্যমে এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকারে সিরস্কি দাবি করেন, যুদ্ধে সামগ্রিকভাবে ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ছয় গুণ বেশি। আর কেবল নিহতের সংখ্যা হিসাব করলে তা ইউক্রেনের চেয়ে ১১ গুণ পর্যন্ত পৌঁছাবে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়া মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে পেরেছে, যা প্রমাণ করে যে যুদ্ধক্ষেত্র কার্যত অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া যে পরিমাণ ভূখণ্ড দখল করেছে, তার চেয়ে বেশি এলাকা তারা হারিয়েছে।

তবে যুদ্ধরত দুই দেশের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সেনা নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না। ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ৫ লাখ সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাবে, গত জুন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় দেড় লাখ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২২ সালে যুদ্ধের শুরুতে রাজধানী কিয়েভ রক্ষা এবং একই বছরের শরতে খারকিভে সফল পাল্টা আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন সিরস্কি। তবে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরোভের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের জেরে চলতি বছরের গ্রীষ্মে সিরস্কিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ প্রসঙ্গে সিরস্কি জানান, ফেদোরোভের সঙ্গে তার বিরোধের মূল কারণ ছিল অস্ত্র ও রসদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য না দেয়া। ফেদোরোভ কেবল ড্রোনের ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে ড্রোনচালিত স্থলযান, পিকআপ ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মতো ফ্রন্টলাইনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে ঘাটতি তৈরি করেছিলেন।

নিজের কমান্ডের অধীনে থাকা অবস্থায় পূর্বের শহর আভদিভকা ও ভুলহাদার থেকে সেনাদের পিছু হটার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সিরস্কি বলেন, ইউক্রেনকে অনেক বেশি শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে চালানো অভিযানকে অপরিহার্য দাবি করে তিনি বলেন, ওই অভিযানের ফলে রাশিয়া অন্যান্য ফ্রন্ট থেকে সেনা সরাতে বাধ্য হয়, যা ইউক্রেনের ক্লান্ত ব্রিগেডগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিল।

ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক করে ইউক্রেনের সাবেক এই শীর্ষ জেনারেল বলেন, ‘যুদ্ধ ইউরোপে আসবে না—এমন ভ্রম অবিলম্বে ঝেড়ে ফেলে এখনই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন।’ তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটের ব্যবহার বাড়বে, তবে রণক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকাই সব সময় চূড়ান্ত থাকবে।

এএম