গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের আগে বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে বক্তব্য দেয়ার সময় মেলোনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পরিণতি অনিশ্চিত, তবে ঝুঁকিগুলো একেবারেই স্পষ্ট।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের শহরগুলোতে যখন ক্রমাগত রাশিয়ার বোমা পড়ছে, তখন এই চুক্তি মস্কোকে একধরনের বৈধতা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি যুদ্ধের জন্য নতুন রাজস্ব তৈরি করবে এবং পরোক্ষভাবে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে দুর্বল করে তুলবে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত, সেই যুদ্ধে বিনিয়োগ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দাম কমাবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্য অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের চড়া দাম একটি বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পার্লামেন্টে মেলোনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য ইইউর ২৭টি দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে নিয়ে গঠিত ইথ্রি গ্রুপকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেলোনি বলেন, ‘ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন যদি মনে করে যে সবাই মিলে করার চেয়ে তারা নিজেরাই একা বিষয়টি ভালো সামলাতে পারবে—আর এখন পর্যন্ত তারা সেই পথেই হেঁটেছে—তাহলে অন্তত সবার পক্ষ থেকে এবং আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেট নিয়ে তাদের এই কাজটি করতে দেয়া হোক।’
আসন্ন ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান মেলোনি। কিয়েভের প্রতি পশ্চিমাদের সমর্থন দুর্বল করার লক্ষ্যে রাশিয়া ড্রোন অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাতসহ বিভিন্ন গোপন তৎপরতা জোরদার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো রক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি গ্রিড, সমুদ্রগর্ভের কেবল, বন্দর, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রের গভীর তলদেশীয় অঞ্চল—যেখানে ইতালির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।’





