ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; জ্বালানি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ কিয়েভের

রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক এলাকায় কাজ করছেন এক অগ্নিনির্বাপণকর্মী
বিদেশে এখন
0

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কসংকেত ছাড়াই রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দেয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেও কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কিয়েভের একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, একটি বহুতল আবাসিক ভবনে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

টেলিগ্রামে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে এবারও কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।’ তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রমাণ করে তারা ট্রাম্প ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি মানছে না। গত রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প, যদিও যুদ্ধরত কোনো পক্ষই তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়িয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভ ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই কাজ করছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সহায়তা করছি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছি।’ তবে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে আপনাদের জানাব।’

রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির অর্থ নতুন করে যুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, এটি একটি ডিজেল চুক্তি যা বিশ্ববাজারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়। এদিকে এনপিআরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ হয়নি, তবে এটি বন্ধ হতে পারে বলে ইউক্রেনীয় জেনারেলদের সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ডিজেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমবে না, কারণ তেলের সরবরাহ যথেষ্ট নয়; তবে এটি রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যয়ের জন্য অর্থের জোগান দেবে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তারা এখনো মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছেন। হামলায় সতর্কসংকেতের বিলম্ব মূলত রাশিয়া কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার ওপর নির্ভর করে। সিবিহা আরও বলেন, তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের মার্কিন অনুরোধ প্রমাণ করে ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয়েছে। গত বছর ওভাল অফিসের একটি বৈঠকে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবিহা বলেন, ‘দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা হাতে কোনো তাস (কার্ড) না থাকার অবস্থা থেকে তাস ব্যবহার না করার অবস্থায় পৌঁছেছি। এটি একটি অর্জন।’

এর আগে সোমবার ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় রাশিয়া। জ্বালানি যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র জানান, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তিনি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং সঠিক পদক্ষেপের পথ খুঁজতে হবে। ইউক্রেন বৈঠকের জন্য প্রস্তুত।’

নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হফম্যান বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-বেসড ইনফ্রারেড সিস্টেমের সমকক্ষ কিছু নেই এবং ইউরোপীয় মিত্রদের এই সহায়তা দেয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।

এএম