চলতি বছরে হচ্ছে না ট্রাম্প-কিম বৈঠক; আগ্রহ নেই উত্তর কোরিয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন
বিদেশে এখন
0

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী হলেও পিয়ংইয়ং এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপে সাড়া দিচ্ছে না তারা।

আসন্ন বৈঠক সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক সম্মেলনের আগে হাতে সময়ও খুব কম রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আগে পিয়ংইয়ং কঠোর শর্ত জুড়ে দেবে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় থাকতে পারে। তবে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ‘চমৎকার’।

এর আগে গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি কিমের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা করছেন এবং কিমও তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিল, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও কিমের সাক্ষাতের ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গত সোমবার ট্রাম্প নিজেই এমন বৈঠকের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো, তবে কেউ এই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে কি না তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।’ দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রস্তুতি পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন হলেও যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করবে সিউল। এর আগে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কাং কিয়ং-হোয়াও জানান, শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এই মুহূর্তে ঘোষণা করার মতো কোনো বৈঠকের সূচি নেই। উপযুক্ত সময়ে দুই নেতা বৈঠকে বসবেন।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ ফেলো অঙ্কিত পান্ডা মনে করেন, এপেক সম্মেলনে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম। উত্তর কোরিয়ার হয়তো বৈঠকের আগে বড় কোনো প্রকাশ্য ছাড় বা বার্তা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি ছাড়া কেবল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দুই কোরিয়া তাত্ত্বিকভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে দক্ষিণ কোরিয়ার সুরক্ষায় দেশটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। অতীতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের তিনটি ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

এএম