মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের স্ট্র্যাটেজি, প্ল্যানস অ্যান্ড পলিসি (জেফাইভ) বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে আকস্মিকভাবে এই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের এক মুখপাত্র সিলভিয়ার দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি এবং কে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন ও হেগসেথের অধীনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল ও কর্মকর্তাদের বিদায়ের যে ধারা চলছে, এটি তারই সর্বশেষ ঘটনা।
জয়েন্ট চিফসের তথ্য অনুযায়ী, জেফাইভ পদটি অত্যন্ত কৌশলগত এবং এর মূল কাজ হল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় নেতৃত্বের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক কৌশল বাস্তবায়নের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সামরিক পরামর্শ দেয়াই এই বিভাগের প্রধানের কাজ। সিলভিয়া পূর্বে সেনাবাহিনীর ১০১তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন এবং বাইডেন প্রশাসনের শেষ সময়ে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন তাকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন। ইতোমধ্যে জয়েন্ট চিফসের ওয়েবসাইট থেকে তার জীবনবৃত্তান্ত সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পেন্টাগনের এক অত্যন্ত সংকটজনক মুহূর্তে সিলভিয়াকে অপসারণ করা হল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ‘৯৬ ঘণ্টার মধ্যে’ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, ‘এটি একটি বিশাল সামরিক পদক্ষেপ হবে।’ সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প আদৌ নির্দেশ দেবেন কি না তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই, বরং প্রশ্ন হল তিনি ঠিক ‘কখন’ এই নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের ধারণা, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই যেকোনো সময় এই নির্দেশ আসতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই হেগসেথ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব ঢেলে সাজাচ্ছেন। এর আগে গত এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তীব্র করার ইঙ্গিত দেয়ার পরদিনই সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়াও হেগসেথ এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, নৌবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তাকে অপসারণ করেছেন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। সিলভিয়ার পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জো ম্যাকগিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে হেগসেথের চাপের মুখে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।





