ইরানে তীব্র সামরিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের; উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন দেশটির যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ
বিদেশে এখন
1

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত তীব্র সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে কয়েকটি আরব উপসাগরীয় দেশকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করে ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে নতুন করে এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের গোলাবারুদের মজুত বাড়িয়েছে এবং হামলার জন্য বোমারু ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ইসরাইলে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থানান্তর করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী মাসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন থাকা প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের বহরে যুক্ত হবে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী বহর ও মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট। ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের কূটনৈতিক মিশন ও সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ইতোমধ্যে বাড়তি জনবল সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ব্যয় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার হতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন। মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছে ব্যবহৃত বোমা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও সামরিক অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের আঘাত হানার দিকেই ঝুঁকছেন। তবে নির্বাচনের আগে কোনো হামলা চালানো হবে না বলে আগেই স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।

এদিকে সংঘাত এড়াতে কাতারের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে। রোববার কাতারের পক্ষ থেকে দেয়া একটি খসড়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাতার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেয়নি, বরং পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কোনো প্রকার ছাড় দেবে না। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইল-উসকানিযুক্ত যেকোনো সামরিক হঠকারিতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলবে।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের অস্তিত্বমূলক হুমকি চিরতরে নির্মূল করতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটও অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি ইরানে সামরিক হামলার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

এএম