নিউ ইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। পডফোর্স ওয়ান অনুষ্ঠানে সোমবার এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এমনটি ঘটলে আমি সম্ভবত “মিস্টার ভেটো” হয়ে উঠব। আমি তাদের কোনো কিছুই পাস হতে দেব না।’ তবে একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর আগেও এমন হয়েছে যে প্রেসিডেন্টের দলের হাতে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল না।’
কংগ্রেসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কৌশল ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক প্রস্তাব পাঠাবে এবং তিনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক বা দুই মাস সব প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার পর তারা সমঝোতায় বসতে বাধ্য হবে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেই আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
দ্য হিলের নির্বাচনি জরিপ সহযোগী ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউয়ের (ডিডিএইচকিউ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ। এছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ ও রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে নিজের উভয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর কংগ্রেসে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকানরা। ওই সময় মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির ওপর সিনেটের স্থগিতাদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলে ভেটো দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবেও ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তখন বেশ বেগ পেতে হয়েছিল ডেমোক্র্যাটদের। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে এবং ক্ষোভ মেটাতেও ট্রাম্প অনেক সময় বিলে ভেটো দেন।
—দ্য হিলের প্রতিবেদন অবলম্বনে





