ফ্রান্সজুড়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার প্যারিস, লিওঁ ও মার্সেই শহরে আবারও বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে এবং শিক্ষকদের অংশগ্রহণের ফলে অনেক স্কুল বন্ধ থাকতে পারে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, সাঁজোয়া যান, ড্রোন ও হেলিকপ্টারসহ ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর আগে আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য পুলিশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সতর্ক করে বলেছে, ফ্রান্স অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাড়ছে। বিবৃতিতে তারা বলে, ‘জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, ঘরভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ—মজুরি ও পেনশন ছাড়া সব কিছুর দামই বাড়ছে।’
অতিরিক্ত ঋণে জর্জরিত ফ্রান্স বর্তমানে ইতালি ও বেলজিয়ামের মতো ইউরোপের অন্যতম দুর্বল অর্থনীতির দেশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। তারা সামাজিক ও পরিবেশগত সংকটগুলোর কালবিলম্ব না করে সমাধানের দাবি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই গৃহবিবাদ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধর্মঘটের আগেই ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল সরকার। গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি হাই স্কুলে শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদ থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষার্থীরা এবং জ্বালানিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মীরা এতে যোগ দেন।





