ইয়েমেনের আল-জাওফে কৌশলগত পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি সরকারি বাহিনীর

ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনারা
বিদেশে এখন
1

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের আল-দাহিদা পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের মধ্যে গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বাহিনী জানায়, সেখানে আরও অগ্রসর হয়েছেন সেনারা। একই সময়ে আল-দালেয়া, লাহিজ ও তায়েজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় লড়াই বেড়েছে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের সহায়তায় সেনারা আল-দাহিদা এলাকার হুথিদের সামরিক অবস্থান ও ব্যারাকে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বিমান ও ড্রোন হামলায় হুথিদের কয়েকটি সমাবেশস্থল ও অস্ত্রের গুদামও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে গোষ্ঠীটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

ইয়েমেনের ডন অব ইয়েমেন অভিযান দ্বিতীয় মাসে পড়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে আল-জাওফে কয়েক সপ্তাহ ধরে হুথিদের অবস্থান ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে আসছে সরকারি বাহিনী। এর আগে প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের পূর্বদিকে কয়েকটি কৌশলগত উঁচু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দাবি করেছিল তারা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বীকৃত সরকারের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত অভিযান চলবে।

তায়েজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৮

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-দালেয়া প্রদেশে একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে আটজন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন এক সামরিক সূত্র।

আল জাজিরার সংবাদদাতা মাঠপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, আল-দালেয়ার উত্তরাঞ্চলে আল-জুমাইমা শিবিরে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের একটি সমাবেশে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। তবে হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তায়েজ প্রদেশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় লাহিজের আল-মাকাতিরা জেলায় কয়েকটি অবস্থানের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পাওয়ার দাবি করেছে তারা। এলাকাটি তায়েজ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের রাজধানী এডেনের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ।

এদিকে হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, আল-বাইদা শহরের একটি সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্সেস শিবিরে চারটি বিমান হামলা হয়েছে। তায়েজের আল-সিলও জেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও হামলার খবর দিয়েছে তারা। হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের চালানো হামলায় এ সপ্তাহে দুই দিনে বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

হুথিদের সহায়তায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অভিযোগ

ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আলী হায়দান অভিযোগ করেছেন, ২১ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ হুথিদের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছেন। তাঁদের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) ১৪ জন এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর সাতজন রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে হিজবুল্লাহ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে বুধবার সকালে দুইবার আগাম সতর্কসংকেতের সাইরেন বাজিয়েছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এর আগের রাতে রিয়াদ অঞ্চলেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মক্কার আকাশে একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সৌদি ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রিয়াদ দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা দ্রুত আরও বেড়ে যেতে পারে। দেশটিতে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের আগে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম