মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনের নেপথ্যে কি- তা নিয়ে চলছে চুলচেঁরা বিশ্লেষণ। ইতোমধ্যেই স্বয়ং ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স স্বীকার করে নিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটের রায়ে পরাজিত রিপাবলিকানরা।
ট্রাম্প- ভ্যান্সের স্বীকারোক্তিতেই প্রমাণিত, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিজের পায়ে কুড়োল মারার সামিল রিপাবলিকানদের জন্য। ব্যর্থতার দায়ে অনেক রিপাবলিকান কাঠগড়ায় দাঁড় করান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের খবর প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। গুঞ্জন ওঠে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের।
তবে গুঞ্জনের খবর উড়িয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে স্ব-পদেই বহাল থাকছেন হেগসেথ ও রুবিও। এর আগে এক ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের সাফাই গেয়ে গুঞ্জনকারীদের ওপর নিজের রাগ ঝাড়েন হেগসেথ।
এদিকে, মিডটার্মের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতেও শূন্য পাওয়া ট্রাম্প হন্য হয়ে উঠেছেন নিজের নতুন কূটনৈতিক অংশীদার খুঁজতে। আর এ তালিকায় চমক দেখিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শরানাপণ্ণ হতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ দুই বছর বড় কূটনৈতিক সাফল্যের খোঁজে কিমকে বেছে নিতে চান ট্রাম্প। তবে, এক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সামনে পাহাড়সমান হয়ে দাঁড়াতে পারে কংগ্রেস বাধা।
কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপলোম্যাটিক একাডেমির সহকারী অধ্যাপক ব্যান গিল-জু বলেন, ‘যদি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে জোরালোভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে চান, তাহলে কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়বেন। এখনই বিরোধী আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের পিয়ংইয়ংমুখী নীতির বিরোধিতা শুরু করেছেন।’
কিমের সঙ্গে ট্রাম্প সম্পর্ক জোরদার করতে চাইলেও, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা এ বিষয়ে কতটুকু আন্তরিকতা দেখাবেন তা নিয়েও সন্দিহান বিশ্লেষকরা।
কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপলোম্যাটিক একাডেমির সহকারী অধ্যাপক ব্যান গিল-জু বলেন, ‘ট্রাম্প রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের সম্মুখীন। কিম নয়। তাই জনপ্রিয়তায় তলানিতে থাকা ট্রাম্পের সঙ্গে কিম কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবেন কিনা তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।’
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছানোর পর থেকেই, একের পর এক মারণাস্ত্র তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।





