জর্জিয়া-টেনেসিতে ভয়াবহ বন্যা; উদ্ধার শতাধিক মানুষ

জর্জিয়ার উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় চলছে উদ্ধার অভিযান
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি পার্বত্য শহরে ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতভর ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি রেকর্ড উচ্চতায় ওঠায় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করতে হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে জর্জিয়ার ফ্যানিন কাউন্টির ম্যাককেসভিল এবং টেনেসির পোক কাউন্টির কপারহিল শহরে ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়, যা বন্যা সতর্কতার সর্বোচ্চ স্তর। জর্জিয়ায় টোকোয়া ও সীমান্তের ওপারে টেনেসিতে ওকোয়ি নামে পরিচিত নদীটিতে রেকর্ড বন্যা দেখা দেয়।

দুই অঙ্গরাজ্যের জরুরি বিভাগের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। টেনেসি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অথরিটির ক্রিস্টিন কোল্টার জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত জর্জিয়া ও টেনেসিতে ১০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই সময় পর্যন্ত গুরুতর আহত বা নিখোঁজ কারও খবর তাদের জানা নেই।

রাতে জর্জিয়ার ফ্যানিন কাউন্টির অন্যান্য অংশ ও পার্শ্ববর্তী গিলমার কাউন্টির জন্য আলাদা ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়। কাউন্টি দুটির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে একাধিক বাড়িতে পানি ঢুকেছে এবং কিছু বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পানিতে ঘেরা পড়েছে।

ম্যাককেসভিলের পুলিশপ্রধান মাইকেল আর্লি শহরের বন্যাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেন। কর্মকর্তারা জানান, ফ্যানিন কাউন্টিতে রাতভর অভিযানে সুইফট ওয়াটার টিম প্রায় ৫৭ জনকে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরবর্তী ম্যাককেসভিলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প বৃহস্পতিবার বিকালে ফ্যানিন, গিলমার, মারে ও ইউনিয়ন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। পোক কাউন্টির বন্যা মোকাবিলায় টেনেসি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অথরিটি তাদের অপারেশন সেন্টার সক্রিয় করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও বিপদ কাটেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পোক কাউন্টির শেরিফ ও ম্যাককেসভিলের পুলিশপ্রধান বন্যাকবলিত এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক কারফিউ জারি করেছেন।

ফ্যানিন কাউন্টির ফায়ার চিফ ল্যারি থমাস সিএনএনকে জানান, ভূমিধসে একাধিক সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু সড়ক পুরোপুরি ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে প্রোপেন গ্যাসের ট্যাংক ভেসে বেড়াচ্ছিল। ম্যাককেসভিলে এমন একটি ট্যাংকে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক ফায়ার সার্ভিসকর্মী সামান্য আহত হন বলে জানিয়েছেন আর্লি।

রাতে অন্তত চারটি স্থাপনায় আগুন লাগে। ল্যারি থমাসের ধারণা, বজ্রপাত থেকে এসব আগুনের সূত্রপাত। বন্যার পানির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে না পারায় একটি বাড়িসহ দুটি স্থাপনা পুড়ে যায়।

ধীরগতির ঝড়ের কারণে উত্তর জর্জিয়ার বিভিন্ন অংশে রাতভর ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় তা ৮ ইঞ্চি ছাড়িয়ে যায়। ওই অঞ্চলের একাধিক বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রে মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এটিকে অন্তত ২০০ বছরে একবার ঘটার মতো বৃষ্টিপাত হিসেবে ধরা হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট বছরে এমন বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বাড়ায় এমন চরম বৃষ্টিপাত আরও সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে। কারণ, উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে।

এদিকে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রভাব পড়বে; সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি হতে পারে শুক্রবার। তবে কয়েক সপ্তাহের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মাটি বেশির ভাগ পানি শুষে নিতে পারবে বলে ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা কম।

দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ডে বন্যার জন্য ৪ মাত্রার মধ্যে ২ মাত্রার ঝুঁকি জারি করা হয়েছে; সেখানে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় তা ৫ ইঞ্চি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বোস্টন এই অঞ্চলের ঠিক বাইরে, নিউ ইংল্যান্ডের বৃহত্তর ১ মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরাঞ্চল ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়া ও উত্তর-পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনায় ১ মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত ইন্টারস্টেট ৯৫ করিডরে এখনো বন্যার ঝুঁকি দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে সড়কে পানি জমা এবং বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে। শনিবার বিকালের মধ্যে পূর্ব উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে আসবে।

এএম