সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সান্তিয়াগো পেনা বলেন, ‘আমি কোনো পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে থাকলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার উদ্দেশ্য কখনোই আমার ছিল না।’
ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংক আর্থিক অসচ্ছলতার মুখে দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ায় পড়ার পর তাদের সব লেনদেন স্থগিত হয়ে যায়। সেখান থেকেই এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত। গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মূল মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারী ছিলেন পেনা। ফলে আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন।
তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পেনা। এর আগে তিনি জানান, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উয়েনো ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা প্যারাগুয়ের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে পেনশন ও কিছু সরকারি তহবিলও জমা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ব্যাংকটির কার্যক্রম ধসে পড়ার পর লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ তুলতে ব্যর্থ হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এদিকে ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন। বৃহস্পতিবার দেশটির কংগ্রেস ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
প্যারাগুয়ের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ কার্যকর হতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আলোচনার জন্য ডাকা কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন স্থগিত করে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার কংগ্রেসের আরেকটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পেনা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পেনা সিনেটের অভিশংসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘আমি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার প্রয়োগ করব। আমার কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হবে, তা সরবরাহ করব। কোনো কিছু আড়াল না করে নাগরিকদের সত্য জানার অধিকার রয়েছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।’
ইতোমধ্যে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন একজন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে কংগ্রেস।
২০২৩ সালের নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে প্যারাগুয়ের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সান্তিয়াগো পেনা। এদিকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে কলোরাডো পার্টি। নিয়ম অনুযায়ী, পেনা বিদায় নিলে পেদ্রো আলিয়ানাই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।





