আর দু’দিন পর দীপাবলি, পটকা আর আতশ বাজি কেনার ধুম পড়েছে শহর থেকে জনপদে। কার্তিকের শেষ সপ্তাহ আর দীপাবলির উদযাপন মানেই ধোঁয়া আর কুয়াশা মিলেমিশে তৈরি হবে স্মোগ। ধূসর চাদরে ঢাকা পড়বে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত।
সরকারের কড়াকড়িতে গত বছর একই সময়ের তুলনায় অর্থাৎ, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ফসলের উচ্ছিষ্ট পোড়ানো ৩৮ শতাংশ এবং ৬৪ শতাংশ কমলেও, শুক্রবার বেলা ৮ টা- ৯টা পর্যন্ত ঘন ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।
সরকারি সংস্থা ‘সিস্টেম অফ এয়ার কোয়ালিটি ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ’ এর তথ্য, এ দিন রাজধানীতে বাতাসের মান সূচকে ছিল ৩৭০। ৫৯টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিতে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় বায়ুমান ছিল 'গুরুতর' পর্যায়ে। এর মধ্যে রোহিনিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ, সূচক ৪৭৫। আর আইআইটি দিল্লিতে এই সূচক ৪৭২। এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম'র পূর্বাভাস শুক্রবারই দিল্লিতে এই মৌসুমের প্রথম বায়ুমান গুরুতর অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, চলবে রোববার দীপাবলি পর্যন্ত।
বাতাসে দূষণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় দিল্লির প্রাদেশিক সীমান্ত থেকে ২,৫০০টিরও বেশি যানবাহন ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ নভেম্বর- এই ৪৮ দিন ফসলের বর্জ্য, দীপাবলির পটকা, আতশবাজি পোড়ানোর ধোঁয়া, মানহীন যানবাহনের দূষণ আর নির্মাণকাজের জেরে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস- বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। শীতের ঠাণ্ডা ও ঘন বাতাসে আটকা পরে ধোঁয়া আর কুয়াশায় মিলেমিশে সৃষ্টি হয় স্মগের।
বাতাসের মানের এই দুর্গতি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের লাহোর প্রদেশে। পাঞ্জাব পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার মতে, স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় শহরের সার্বিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুর মান সূচক ছিলো ৩১২, যাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে কাহনা নাউ শহরে ছিলো সর্বোচ্চ ৪৪৯।
দূষিত বাতাসের কারণে নাক বন্ধ, গলার সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এবং চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন স্থানীয়রা। ডাক্তাররা সতর্ক করছেন, লাহোরের একিউআই বা বায়ু মান সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলেও, মাঝে মাঝে তা ১,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এমনটা হলে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা ছাড়াও বয়স্ক, অসুস্থ ও শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার দাবানল পরিস্থিতি সামলানো গেলেও কালিমান্তানে এখনও অগ্নিকাণ্ডের হটস্পট জীবন্ত আছে। তবে শুক্রবার সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বাতাস মোটামুটি বা মডারেট সূচকে ছিলো। আর, গেল মাসের ভয়াবহ ধোঁয়াশার তুলনায় দূষণ কমেছে প্রত্যাশা অনুযায়ী।





