বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা করছি। এটিতে যেন কেউ হাত দিতে না পারে কিংবা কিছুটা ভিন্ন আকৃতিতে গড়ার অজুহাতে কোনো নির্বোধ যেন এটিকে ধ্বংস বা ভেঙে ফেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের মতো ওভাল অফিসও আমাদের দেশ এবং দেশের শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রতীক।’
তবে এই নির্বাহী আদেশের ফলে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের কক্ষটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা আসবাবপত্র পরিবর্তনের অধিকার খর্ব হবে না। আদেশে বলা হয়েছে, ওভাল অফিসের ঐতিহাসিক কাঠামো বা স্থাপত্যের কোনো ক্ষতি না করে স্বাভাবিক পরিচালনা, আসবাব নির্বাচন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবর্তন আনার এখতিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্টদের থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাউসে কিছু পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখলেও বড় ধরনের কোনো সংস্কার প্রকল্পের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কয়েক মাস আগে হোয়াইট হাউসের পুরো ইস্ট উইং ভেঙে ফেলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। ভেঙে ফেলা ওই অংশে একটি বড় বলরুম নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার সংস্কারের আগে ওভাল অফিস ও পুরো হোয়াইট হাউস বেশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। ভাঙা কাচ ও দেয়ালে ফাটল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যেসব বিশ্বনেতা হোয়াইট হাউসে এসেছেন, তারা সবাই তার নতুন সাজসজ্জার প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের আনা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে ওভাল অফিসের বাইরে একটি বড় স্বর্ণের ফলক বসানো, রোজ গার্ডেন পাকা করা এবং একটি নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণ।
হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ আগে থেকেই একটি ‘জাতীয় ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক’ হিসেবে স্বীকৃত, যা ভবনের আকস্মিক পরিবর্তন রোধ করে। তবে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের অধীনে ওভাল অফিসকে আলাদাভাবে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোনো ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট চাইলে ট্রাম্পের এই আদেশ বাতিল করতে পারেন কি না, তা আদালতে পরীক্ষিত নয়।
ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণবিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ গ্রেগ ওয়ার্কহাইজার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প একদিকে ওভাল অফিস রক্ষার কথা বলছেন, অন্যদিকে অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরক্ষার বিদ্যমান আইনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলছেন।





