১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার হারজোগ এই ঘোষণা দেন। আলোচনায় সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটকে সমর্থন দিয়েছেন ৬৭ জন আইনপ্রণেতা, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাত্র ৪৬ জন।
টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে হারজোগ বলেন, ‘পরামর্শের ফলাফল হয়তো আপাতদৃষ্টে স্পষ্ট মনে হতে পারে, তবে বিভিন্ন জোটের মধ্যে এবং জোটগুলোর অভ্যন্তরীণ পারস্পরিক ভেটোর কারণে কার সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তা বলা কঠিন।’ তিনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনা শেষে রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এককভাবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেলেও তার নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে মধ্য-বাম থেকে ডানপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ইসরাইলের ফিলিস্তিনি আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসনে জয় পায়।
নেতানিয়াহুর মতো আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে আরব দলগুলো প্রেসিডেন্টকে আইজেনকোটের নামই সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে সামরিক বাহিনীতে কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের যোগদান অব্যাহতি সংক্রান্ত বিল পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার কাউকে সমর্থন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন।
ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা নেতানিয়াহু ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুললেও ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ জানিয়েছেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।





