দলত্যাগী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাইবার অভিযানে বড় ধরনের সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে শীর্ষ হ্যাকারদের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের সদস্যপদ ও অভিজাত পরিবারে বিয়ের সুযোগও মেলে। প্রতিবছর স্কুল পর্যায় থেকেই ১১ থেকে ১২ বছর বয়সী প্রায় ২০০ জন তুখোড় মেধাবী শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করে উত্তর কোরিয়া।
বাছাই করা এই শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর গণিত, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রটোকল ও সফটওয়্যার রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো জটিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১৭ বছর পার হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত কয়েকজনকে সামরিক বাহিনীর সাইবার ইউনিটে যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধও উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতার অন্যতম একটি ‘বহুমুখী অস্ত্র’।
গত মাসে বাইন্যান্সে ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতির জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ। ব্লকচেইন নজরদারি সংস্থাগুলো এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডার ট্রেইটর’ নামের হ্যাকার গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরের মতোই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করেছে। ২০২২ সালেও দেশটির হ্যাকার গ্রুপ ‘লাজারাস’ শত শত কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি লুট করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর আদলে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যেমন চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে কোডিং, ভুয়া জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং কর্মী ছদ্মবেশে নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে। তবে এই হ্যাকারদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠোর। দৈনিক টানা ১০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ, সার্বক্ষণিক সরকারি নজরদারি এবং ডলার আয়ের নির্দিষ্ট মাসিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়।
—রয়টার্সের প্রতিবেদন অবলম্বনে
 in front of a market chart and US dollar-768x402.webp)




