মার্কিন হাউসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও তথ্যের ওপর চীনের প্রবেশাধিকার নিয়ে গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’ চিঠিতে মেগাস্পিড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এলিস হুয়াংয়ের সঙ্গে জেনসেন হুয়াংয়ের যোগাযোগ এবং বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে এনভিডিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনা নাগরিক এলিস হুয়াং বেইজিংয়ের হয়ে তথ্য পাচার করছিলেন এবং তিনি জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন’ বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় এক বছর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প তখন এই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট, সিলেক্ট কমিটি অন চায়নার চেয়ারম্যান জন মুলেনার এবং হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিক ক্রফোর্ড যৌথভাবে হুয়াংয়ের কাছে এই চিঠি পাঠান। আইনপ্রণেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর প্রযুক্তিতে চীনের নজরদারির বিষয়টি খতিয়ে দেখা তাদের তদন্তের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা নির্ধারণ করা জরুরি। আগামী ১৭ নভেম্বর এনভিডিয়ার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই এই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এনভিডিয়া কর্তৃপক্ষ জেনসেন হুয়াংয়ের শুনানিতে উপস্থিত থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, এলিস হুয়াংয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল নিছকই অন্যান্য গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক সম্পর্কের মতো। মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক ক্লাউড গ্রাহকেরা কেবল নিয়মিত ব্যবসায়িক তথ্য পেয়ে থাকেন; এনভিডিয়ার সংবেদনশীল বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কোনো তথ্য তাদের দেয়া হয় না। সিইও হিসেবে দায়িত্বের অংশ হিসেবেই জেনসেন প্রতিবছর হাজার হাজার গ্রাহক নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলেন।’





