ইসরাইলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কি কাটাতে পারবেন আইজেনকোট?

ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকোট
বিদেশে এখন
0

ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকোটকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তবে পার্লামেন্টে নিজস্ব জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিদায় জানিয়ে নতুন সরকার গঠন করা আইজেনকোটের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১২০ আসনের নেসেটে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। সরকার গঠনের জন্য যেখানে ন্যূনতম ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন, সেখানে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে আইজেনকোটের সামনে কয়েকটি বিকল্প বা সম্ভাব্য দৃশ্যপট রয়েছে।

প্রথমত, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে পাওয়া সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন আইজেনকোট। তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক মিত্র টুগেদার, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও ইসরাইল আওয়ার হোমের সঙ্গে ইসরাইলের দুই আরব দল—রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের ১৯টি আসন যুক্ত হলে মোট সমর্থন দাঁড়ায় ৬৭টিতে। এতে অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকানো সম্ভব হলেও এমন সরকার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হবে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরব সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে। এছাড়া কট্টর ডানপন্থি নেতা আভিগদোর লিবারম্যানের দল ‘ইসরাইল আওয়ার হোম’ আরবদের সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা বারবার নাকচ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইসরাইলের দুটি কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি দলের সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকোট। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস—এই দুই দলের হাতে রয়েছে ১৩টি আসন, যা আইজেনকোটের জোটকে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থোডক্স ছাত্রদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যতামূলক নিয়ম বাতিলের দাবি। আইজেনকোট ও লিবারম্যান অতীতে এর তীব্র বিরোধিতা করলেও সম্প্রতি লিবারম্যান আপসের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘সবকিছু নিজের মতো পাওয়া সম্ভব নয়।’

তৃতীয়ত, নেতানিয়াহুর দল লিকুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করা। নির্বাচনে ২৭ আসন পেয়ে লিকুদ একক বৃহত্তম দল হয়েছে। লিকুদের সঙ্গে আইজেনকোটের জোট যুক্ত হলে তা অনায়াসেই ৬৭ আসনের শক্তিশালী সরকার হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ছিল আইজেনকোট জোটের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তবে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে কিংবা ইরানের সঙ্গে নতুন করে পুরোদমে যুদ্ধ বেধে গেলে শেষ ভরসা হিসেবে এমন ঐক্য সরকার গঠিত হতে পারে।

আইজেনকোট সরকার গঠনে সর্বোচ্চ ৪২ দিন (২৮ দিন এবং প্রয়োজনে বর্ধিত ১৪ দিন) সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট হারজোগ সম্ভবত নেতানিয়াহুকেই সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন। তবে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের আসন কমে ৫৩-তে নেমে আসায় তার জন্যও সরকার গঠন সহজ হবে না। দুই নেতাই ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সমর্থনে তৃতীয় কোনো নেতাকে সুযোগ দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না এলে ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ইসরাইলে ফের নতুন সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

—রয়টার্স ও আল মনিটরের প্রতিবেদন অবলম্বনে

এএম