ইরানে অর্থনৈতিক সংকটে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিহত ৪৫

বিক্ষোভকারীদের একাংশ
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল তেহরানসহ গোটা ইরান। আগুন দেয়া হয়েছে সরকারি টিভি চ্যানেল, গভর্নরের অফিসসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায়। প্রায় দুই সপ্তাহের আন্দোলনে প্রাণ গেছে অন্তত ৪৫ জনের। ইন্টারনেটের পর মোবাইল ফোন সেবাও বিঘ্নিত।

মুদ্রার ব্যাপক দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গেল ২৮ ডিসেম্বর আন্দোলনে নামে ইরানিরা। ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। আন্দোলন ক্রমেই দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র আকার ধারণ করে। ধীরে ধীরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তেহরানসহ ৩১টি প্রদেশের ৩ শতাধিক স্থানে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা চালায় পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের এক সদস্যের মৃত্যুর পর আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠে। ইরান সরকার দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিলেও ১৩ দিনের ব্যবধানে ৮ নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ। গ্রেপ্তার করা হয় আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেন দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তিনি ইরানি রাজতন্ত্রের শেষ উত্তরাধিকারী। সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রেজা পাহলভি।

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বলেন, ‘ইরানের সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ জনগণ ইতিহাস রচনা করছে। এমন সময়ে সবাইকে কোথায় দাঁড়াতে হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। অপরাধী সরকারি বাহিনীর পাশে, নাকি জনগণের পাশে দাঁড়াবে সেই সিদ্ধান্ত ইরানসহ বিশ্ববাসীকে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:

পাহলভির ডাকে বিশাল মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে হাজারো মানুষ। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উৎখাত করে রেজা পাহলভিকে প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগানে ফেটে পড়ে তেহরানের আশপাশের এলাকা। স্বৈরশাসকের মৃত্যু, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু বলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে ভেসে আসে স্বাধীনতার জন্য ইরানে এটিই হবে শেষ যুদ্ধ।

বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট বন্ধের পর কেটে দেয়া হয় ল্যান্ডলাইন ও স্যাটেলাইট সিগন্যালও। এক পর্যায়ে পুলিশের গাড়ি, সরকারি টেলিভিশনে একটি ভবন, গভর্নর অফিসসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ইরানের ফার্স প্রদেশে কুদস বাহিনীর সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে দেয়া হয়।

এদিকে, চলমান আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চালানোর আবারও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে ক্ষুদ্র পরিসরে ভর্তুকি চালু করে ইরান সরকার। তবে এতে খুব একটা কাজ হয়নি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান সরকারের অভিযোগ, আন্দোলনে ইন্ধন যোগাচ্ছে বিদেশি শক্তি।

গেল তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে এটি সবচেয়ে বড় আন্দোলন। অব্যবস্থাপনা, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনৈতিক দুর্দশা ভুগছে ইরান। ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

এএম