ইরানের ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাটার ইঙ্গিত পাহলভির

নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

রেজা পাহলভিকে ভালো মনে হলেও ক্ষমতা দখলে ইরানের অভ্যন্তরে তিনি জনসমর্থন আদায় করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তবে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাটার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজ।

সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত অবস্থায় আলোচনায় রয়েছেন ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি। তাকে ইরানের ক্ষমতার মসনদে বসাতেই ওয়াশিংটনের এত আয়োজন কি-না তা নিয়ে সহিংস আন্দোলনের শুরুতেই প্রশ্ন রয়েছে। রেজা পাহলভিও আশায় আছেন, হয়তো ইরানের পরবর্তী ক্ষমতায় তাকেই সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিশেষ সাক্ষাৎকার নেয় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। একান্ত সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভিকে খুব ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু পাহলভি ইরানের ভেতরে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করে ক্ষমতা দখল করতে পারবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গ্যারান্টি দিয়ে পাহলভি বা কারো কথা বলার প্রকৃত সময় এখনও হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:

পাহলভিকে ইরানের পরবর্তী নেতৃত্বে দেখা যাবে কি-না সে বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করলেও বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন হবে বলে জোর দিয়ে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে পাহলভির সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

রয়টার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের একান্ত সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্যগুলো ইরানে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে পাহলভির সক্ষমতাকে আরও বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল। তবে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাহলভি জানিয়েছেন, ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে থাকা অন্যান্য প্রতিপক্ষদের সঙ্গেও যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত।

রেজা পাহলভী বলেন, ‘অনেক মানুষ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এমন একটি প্রতিপক্ষ আছে যারা একে অপরকে সাহায্য করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাদের পরিচয় যেন গোপন থাকে। আগেই পরিচয় প্রকাশ পেলে বিপদে পরার সম্ভাবনা আছে। তাই আমাদের এ বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। তবে ইরানের অভ্যন্তরে থাকা সেই শক্তিগুলোর সঙ্গে আমরা ক্রমাগত সংলাপ করছি । সবদিক দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্র নির্বাসিত যুবরাজ পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে তার বাবার পতনের আগেই ইরান ছেড়েছিলেন। বিদেশে থাকলেও চলমান বিক্ষোভে প্রথম থেকেই তিনি একজন বিশিষ্ট কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। ইরানের রাজতন্ত্রবাদীরা পাহলভির সমর্থক হলেও দেশটির অন্যান্য সরকারবিরোধী দল ও গোষ্ঠীগুলো এখনও বিভক্ত হওয়ায় নির্বাসিত যুবরাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এখনই কিছু বলা মুশকিল— তা ট্রাম্পের কথায়ও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এসএস