যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ক্রমাগত চাপ ও জনরোষে কোণঠাসা পেজেশকিয়ান প্রশাসন

ইরানের বিক্ষোভ
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে আর্থ-সামাজিক অধিকার রক্ষার দাবি-গেল ৫০ বছরে বহু গণআন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, এবারের বিক্ষোভ ও জনরোষ ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০২২ সালে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনকেও। দেশের অভ্যন্তরে ফুঁসতে থাকা জনগণ আর দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ক্রমাগত চাপ-এমন উভয় সংকটে পেজেশকিয়ান প্রশাসনকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষ তিন বছর আগে ইরানের কারাগারে ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর গণজোয়ার দেখেছিল ইরানবাসী। এসময় মাসব্যাপী নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন ৫০০ এরও বেশি মানুষ। আর আটক হয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার বিক্ষোভকারী।

গেল ৫০ বছরে ধারাবাহিকভাবে বহু গণআন্দোলনে কেঁপেছে ইরান। যার অধিকাংশই ছিল দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

১৯৭৯ সালে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। মূলত শিক্ষার্থী, তেল শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতার আন্দোলনের ফসল ছিল এ ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এরপর নতুন সরকারের দমননীতির কারণে দীর্ঘদিন শান্ত ছিল ইরান।

১৯৯৯ সালে একাধিক হত্যাকাণ্ড বা চেইন মার্ডারের জেরে তেহরান জুড়ে বিক্ষোভে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দমনের চেষ্টা করলে আরও তীব্র হয় আন্দোলন। আটক হন হাজারও বিক্ষোভকারী।

আরও পড়ুন:

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সংস্কারপন্থী বিরোধীরা। পরবর্তী কয়েক মাস দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো মানুষ। যা গ্রিন মুভমেন্ট নামেও পরিচিত ছিল।

২০১৭-১৮ সালে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নগদ সহায়তা কমানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় মাশহাদ শহরে। ২০১৯ সালে দেশজুড়ে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ইরান সরকার। এর জেরে পেট্রোল পাম্প, ব্যাংক ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। প্রাণ যায় তিন শতাধিক মানুষের। বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট সংযোগ।

ইসলামি বিপ্লবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের তালিকা বাদ দিলে ২০১৯ সালের পর ২০২২ এ মাশা আমিনির মৃত্যুর জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভকেই গেল ৫০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হতো। যদিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এবারের বিক্ষোভের তীব্রতা ছাড়িয়ে যেতে পারে অতীতকে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ নিত্যপণ্যের দাম যখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তখন সেই জনরোষ ঠেকানো কঠিন। নেতৃত্ব ও সমন্বয়হীনতা থাকলেও চলমান আন্দোলনে অর্থনৈতিক ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক দলের ওপর অনাস্থাও। বিশেষ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থক বাজারিরাও দোকান বন্ধ করে রাজপথে নামায় তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন পেজেশকিয়ান প্রশাসন।

এসএস