ইসলামাবাদ-কাবুল সংঘাতের নেপথ্যে ‘ডুরান্ড লাইনের স্বীকৃতি’?

ডুরান্ড লাইন
এশিয়া
বিদেশে এখন
3

পাকিস্তান-আফগানিস্তানের নতুন সংঘাতের নেপথ্যে সাম্প্রতিক ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলা ও বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনের স্বীকৃতি। বিশ্লেষকদের অভিমত, চলমান সংঘাতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লা ভারী ইসলামাবাদ ও কাবুল দুই দেশেরই।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতাভার গ্রহণ করলে, তাদেরকে স্বাগত জানায় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলামাবাদের প্রত্যাশা ছিল, প্রতিবেশি দেশটির নতুন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে।

কিন্তু অল্পদিনের মাঝেই ইসলামাবাদের বন্ধু থেকে শত্রু হয়ে ওঠে তালেবান সরকার। পাকিস্তানের অভিযোগ, দেশটির অভ্যন্তরে একের পর এক সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী আফগানিস্তানের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক- ই তালেবান বা টিটিপি। এছাড়াও বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে কাবুলের বিরুদ্ধে।

এসব কারণে প্রায়ই সীমান্তে সংঘাতে জড়ায় দুই দেশ। তবে বৃহস্পতিবারের হামলা আগের সংঘাতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মত, শুধু টিটিপি বা পাকিস্তানে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনও রয়েছে তালেবান ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে।

চাথাম হাউজের এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কর্মসূচির ফেলো ড. ফারজানা শেখ বলেন, ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দ্বন্দ্বের ইতিহাস অনেক পুরানো। কাবুল কখনই ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমানার স্বীকৃতি দেয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের পেছনে এটি একটি বড় কারণ।’

আরও পড়ুন:

তবে চলমান সংঘাত কার কতটুকু লাভ বা ক্ষতি হবে তাও নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

ড. ফারজানা শেখ বলেন, ‘আমার মনে হয় দুই দেশেরই ক্ষতির পাল্লা ভারী। আফগানিস্তান এখনও অনেক দেশের স্বীকৃতি পায়নি। পাকিস্তানও অনেক অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও ভারতের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্বে লিপ্ত পাকিস্তান।’

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক শক্তির দিক থেকে যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছয় লাখের বেশি হলেও, আফগানিস্তানের সেনা সংখ্যা মাত্র ৭৫ হাজার। এছাড়া অস্ত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদের থেকে বহুগুণ পিছিয়ে কাবুল।

এসএস