নেপালের সঙ্গে প্রায় ৫০ বছরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ৫০০ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে দেশটিতে যায় বাংলাদেশি পণ্য। প্রথমে ভারতের ফুলবাড়ি, পরে নেপালের কাকড়ভিটা হয়ে পণ্য পৌঁছায় কাঠমান্ডু। সার্কভুক্ত প্রতিবেশি এ দেশে রপ্তানি হয় হয় আলু, পাট, সয়াবিন মিল, টিস্যু, খাদ্য পণ্য, প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ ডলারের। গত পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয় এসেছে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরে নেপাল থেকে আমদানি করা হয় দুই কোটি ডলারের পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো পরিসংখ্যান বলছে, গত দশ অর্থবছরের রপ্তানি সূচকের সাতটিতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:
স্বল্প ও মাঝারি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নেপালে যাতায়াত থাকায় তৈরি পোশাকের ব্যবসায়ও জড়িয়েছেন কেউ কেউ। তবে দেশটির অতিরিক্ত শুল্কারোপ ও বিনিয়োগ ভিসার জটিলতা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির বড় দুই প্রতিবন্ধকতা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা জটিলতাই অনেক বড় সমস্যার কথা বলে জানান প্রবাসী ব্যবসায়ীরা।
নেপালের বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়ক পথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের স্থলবন্দরে পণ্য বোঝাই ও খালাস করতে হয়। দু’বার গাড়িতে ওঠানামার কারণে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হবার ঝুঁকি বাড়ে। খরচও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে ক্ষতির মুখোমুখি হন ব্যবসায়ীরা।
নেপাল প্রাণের কান্ট্রি ম্যানেজার হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশি ট্রাক বা নেপালি ট্রাক যদি নেপালে ডোকার ব্যবস্থা কারা যেত তাহলে ব্যবসাটা আরও সহজভাবে করা যেত।’
নেপারের বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, জনসংখ্যার তুলনায় নেপালের ব্যবসায়িক বাজার ছোট। তবুও দেশিয় ব্যবসা সম্প্রসারণে কাজ করছেন তারা।
আরও পড়ুন:
কাঠমান্ডু বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মো শোয়েব আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পের কিছু পণ্য এখানে রপ্তানি হয় আরও বেশ কিছু পণ্য এখানে রপ্তানি হয়। আমরা চেষ্টা করি এই রপ্তানি পণ্য কীভাবে বাড়ানো যায়।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো জানায়, আঞ্চলিক বাণিজ্যের হার কম হলেও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী মে মাসে নেপালে সাউথ এশিয়া ট্রেড ফেয়ারে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘ভালো কিছু রপ্তানিকারকে আমরা নেপালের এই মেলাতে নিয়ে যাবো। যারা তাদের গুণগত মানের পণ্য নেপালের বাজারে প্রদর্শন করতে সক্ষম হবেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশটিতে প্লাস্টিক পণ্য ও ওষুধ রপ্তানির সম্ভাবনা বেড়েছে। সরাসরি পণ্য পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোকে একই শুল্কের আওতায় আনা গেলে উৎপাদনমুখী শিল্পখাতের বাজার সম্প্রসারণ হবে।





