জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত দৈনন্দিন জীবন

কিউবায় জ্বালানি সংকট
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এখন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। ভারতে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে কাজ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা। আর কিউবায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেখা দিয়েছে পানির সমস্যা।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত অচল হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। এতে এলপিজি আমদানি প্রায় বন্ধ। ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রান্নার গ্যাস সংকটে ভারত। অথচ দেশটিতে ৩০ কোটিরও বেশি পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।

দেশটির অন্যতম বৃহৎ টেক্সটাইল শহর সুরাট। কয়েকদিন ধরে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় অনেকেই শহর ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা গ্রামে ফিরে যাচ্ছি। পাঁচ দিন ধরে গ্যাস নেই। আমরা যে কোম্পানিতে কাজ করি সেটাও বন্ধ হওয়ার পথে, আমরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছি। তাই ফিরতে বাধ্য হচ্ছি।’

অন্য একজন বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে কোনো গ্যাস নেই। এর আগে এক সপ্তাহের মধ্যেই আমাদের সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছিল, তার উপর আবার গ্যাসের ঘাটতি ঘোষণা করা হল। আমরা রান্নার গ্যাসের এজেন্সিতে নাম লিখিয়েছি, কিন্তু তারা কিছুই দিচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:

সংকট ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও। হিমাচল প্রদেশে সরকারি রান্নাঘরেও এখন কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে রিফাইনারিগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গৃহস্থালির জন্য গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে কিউবার রাজধানী হাভানায় জ্বালানি সংকট থেকে তৈরি হয়েছে পানির সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। তাই বালতি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পানির ট্রাকের অপেক্ষায় মানুষ।

পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে পানির অভাব বছরের পর বছর ধরে হাভানার অন্যতম প্রধান দৈনন্দিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এক থেকে দুই লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এর একটা সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। কী ঘটছে তা আমাদের দেখতে হবে। আমাদের এই সমস্যা ২০২১ সাল থেকেই আছে, আর এখন ২০২৬ সাল।’

অন্য একজন বলেন, ‘লোকজন পানির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছে, শুনেছি এর কারণ তেলের ঘাটতি। যেহেতু দেশে তেল আসছে না, তাই পাম্পিং হচ্ছে না, কারণ সেই ব্যবস্থাটি বিদ্যুতে চলে, ফলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কেও পাম্পিং হচ্ছে না।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পুরনো অবকাঠামোর কারণে হাভানায় দীর্ঘদিন ধরেই পানি সংকট ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও তীব্র হয়েছে।

ভারতে গ্যাস সংকট থেকে শুরু করে কিউবায় পানি সংকট— জ্বালানি সংকট কীভাবে মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে, এটি তারই স্পষ্ট চিত্র।

এসএস