অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করাটাই আমাদের দলের এজেন্ডা: অমিত শাহ

অমিত শাহ
এশিয়া
বিদেশে এখন
0

সামনেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। আর নির্বাচনের আগে আরও একবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার স্পষ্ট বার্তা ‘আমাদের দলের এজেন্ডাই হল একেকজন অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে তাদের দেশের বাইরে বের করে দেওয়া।’

এর অর্থ অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে ফের একবার নির্বাচনি প্রচারণায় ঝড় তুলতে চাইছেন বিজেপি নেতারা।

আজ (শনিবার, ২৮ মার্চ) কলকাতায় সংবাদ সম্মেলন থেকে গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে রাজ্যের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা, দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা, শিল্পের বন্ধ্যাত্ব, অনুপ্রবেশ সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু তুলে ধরা একটি অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) সামনে আনা হয়।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিমত, আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন রাজ্য এবং গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ গোটা দেশের সুরক্ষা একপ্রকার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, ‘আসামে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, অনুপ্রবেশ ইস্যু একেবারে শেষ হয়ে গেছে। কেবল মাত্র একটাই রাস্তাই এখনো খোলা রয়েছে যেখান দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে প্রবেশ করে গোটা দেশের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দেশের সুরক্ষা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’

তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বিজেপির তরফে আমরা পরিষ্কার বলে দিতে যাই কেবল ভোটার তালিকা থেকে নয়, গোটা দেশ থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানোর সংকল্প নিয়েছি এবং এটাই আমাদের দলের এজেন্ডা।’

তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা কেবল দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই চিন্তার বিষয় নয়, এ অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় গরীব শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে থাবা বসিয়েছে, যুব সমাজের রোজগার ছিনিয়ে নিচ্ছে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘আমি মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে স্পষ্ট করে জানতে চাই, এত অনুপ্রবেশকারীরা চলে আসলো আর আপনি ঘুমিয়ে আছেন? আমি জানি দিদি হয়তো বিএসএফের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন। বিএসএফ তখনই অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে পারে যেখানে সীমান্তের কাঁটাতার থাকে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে এখনো পর্যন্ত ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত আছে, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র সচিব নিজে এসে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে গেছে, কিন্তু তারপরেও আপনি (মমতা) জমি দিচ্ছেন না। কারণ অনুপ্রবেশকারীদের আপনি ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করতে চান। কিন্তু এবার বিজেপি সরকার তৈরি হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যেই সমস্ত অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতার লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাবে।’

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৫-২৬ অর্থ বাজেটে মুসলিমদের জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দ, পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষদের ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ সংরক্ষণের মধ্যে ৭৫ শতাংশই মুসলিম জনসংখ্যা কে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, ‘মুসলমান ছাড়া কি আর অন্য কোনো সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষ নেই? আপনি কি শাসন চালাচ্ছেন? ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হবে? এই জিনিস চলতে পারেনা। অনুপ্রবেশকারীদের তোষণের কারণে আজকে শিলিগুড়ির করিডোর (চিকেন করিডোর নামেও পরিচিত) সুরক্ষা কমজুরি হয়ে গেছে। জাল নোটে পাচারের কারণে গোটা ভারতের অর্থনীতি প্রভাবিত হয়েছে। আজ গোটা রাজ্যে এ তোষণের রাজনীতি বড় আকার ধারণ করেছে।’

মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একজন নারী। কিন্তু তার শাসনামলে নারীদের অবস্থার সবচেয়ে খারাপ। নারীদের বিরুদ্ধে যারা অত্যাচার করে সেই অপরাধীদের তৃণমূলের নেতারা আশ্রয় দেয়।’

শাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘কাটমানি (কমিশন নেওয়া) আর সিন্ডিকেট- এ দুটো বিষয়কে তৃণমূল সরকার একেবারে ধাতস্থ করে ফেলেছে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সিন্ডিকেটগুলো রাজ্যবাসীকে যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলা এমন একটা জায়গায় গেছে, যেখানে অনুপ্রবেশকারীদের সক্রিয়ভাবে সুরক্ষা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বাম শাসনের অভিশাপ সহ্য করার পর বাংলার মানুষ ‘‘সোনার বাংলা’’ গড়ার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলেন, অথচ আজ সেই একই মানুষ বলছে তৃণমূলের সরকারের চেয়ে আগের বাম সরকারই ভালো ছিল। ফলে বাংলার মানুষকে এটা বেছে নিতে হবে যে তারা ভয়ের পরিবেশ চায়, নাকি আস্থা-ভরসার পরিবেশ চায়।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে দুর্নীতি, ভেদাভেদ, ভয়ের পরিবেশ চলছে। মিথ্যা এবং সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে মমতা তার রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কোন একটি নতুন সরকারের লক্ষ্যই থাকে রাজ্যকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া কিন্তু মমতা সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে খালি মিথ্যা কথা বলা, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা।’

এএইচ