ইরান যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও এপস্টেইন ফাইল কাণ্ডে লেবার পার্টির লর্ড ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগের জেরে আগে থেকেই স্টারমারকে ঘিরে চাপা ক্ষোভ ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি আসন হারায়। শোচনীয় এই পরাজয়ে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে দলের ভেতরে।
এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
এর আগে স্টারমারের অব্যাহতি দাবি জানিয়ে পদত্যাগ করেন কয়েকজন মন্ত্রী। এছাড়াও পার্লামেন্টের অর্ধশতেরও বেশি সংসদ সদস্য স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থতিতে আজ (মঙ্গলবার, ১২ মে) স্থানীয় সময় সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এতে স্টারমার প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন কি না সে বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
বিবিসি বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দু’টি পথ খোলা রয়েছে স্টারমারের। যেসব মন্ত্রীরা তার অব্যাহতি চাইছেন তাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে কিংবা নিজে পদত্যাগ করা।
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। এসময় তাদের কাছে পরামর্শ চান স্টারমার। মন্ত্রীদের কেউ কেউ স্টারমারকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে কাউন্সিল নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভুল সংশোধনের সুযোগ চেয়েছিলেন স্টারমার। এমনকি সংশয়বাদীদের ভুল প্রমাণিত করে প্রধানমন্ত্রীর পদ টিকিয়ে রাখার আশাও জানান স্টারমার। তবে তার আহ্বান মন গলাতে পারেনি দলের নেতাকর্মীদের।
২০২৪ সালে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের মসনদে বসেন কিয়ার স্টারমার। তবে মাত্র দুই বছরের মধ্যে গাজা যুদ্ধ, অভিবাসননীতি, করনীতি ও জনসেবা খাতে সংকটের কারণে ব্যাপক জনসমর্থন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন ডানপন্থী লেবার পার্টি।





