ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত পুতিনের

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

কৌশলগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অনেক বিশ্লেষক একে ক্রেমলিনের চাল হিসেবে এড়িয়ে যেতে চাইলেও আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মস্কো এখন ব্যাকফুটে। কারণ, চার বছরের বেশি সময় সংঘাতের পর এই প্রথম বিজয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে ইউক্রেন।

ইউরাল বা উরাল পর্বতমালার যতদিন আছে বহির্বিশ্বের কোনো শক্তি রাশিয়ার ক্ষতি করতে পারবে না। শতবছরের পুরনো এই প্রবাদে চিড় ধরিয়ে ফেলেছে ইউক্রেন। নেপোলিয়নের আগ্রাসন কিংবা নাৎসি জার্মানদের অভিযান- ইউরাল পর্বতশ্রেণির পেছনে যুদ্ধাস্ত্র, সম্পদ কিংবা লোকবল সরিয়ে নেয়াটাই ছিল সবচেয়ে সহজ সমাধান।

মস্কোর এই ইতিহাসও পাল্টে ফেলেছে কিয়েভ সেনারা। গেল এপ্রিলের শেষে উরালের প্রশাসনিক রাজধানীতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন, পরপর পাঁচ বার বন্ধ করে দেয়া হয় ইয়েকাতেরিনবার্গ বিমানবন্দর। তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জেরে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়া, অর্থনীতির পতন এবং পেট্রোলের ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দেয় পুরো এলাকায়।

শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী অভিযান নয়, সেনা হতাহতের সংখ্যা, রসদ সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা-সব মিলিয়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে এই প্রথম বিজয়ের আত্মবিশ্বাস কী জিনিস তা উপলব্ধি করছে ইউক্রেন। কিয়েভের তাণ্ডবে আর নিরাপদ নয় রাজধানী মস্কোও।

আরও পড়ুন:

দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব দোনবাস অঞ্চলের কিয়েভ-নিয়ন্ত্রিত অংশ দখল করা, উত্তর ও দক্ষিণ ইউক্রেনের কিছু এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়ানো- এই সব অভিযানেই ব্যর্থ রাশিয়া। তাই আবারও শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন, যা ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে। ক্রেমলিনের দাবি, ২০২২ এর ইস্তাম্বুল চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি কর‌তে আগ্রহী রাশিয়া। যদিও কোনো কোনো বিশ্লেষক একে পুতিনের চাল হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে ১০২ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হস্তান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে ইইউ। এছাড়াও ইউক্রেন পুনর্গঠনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং পোল্যান্ডের একটি বিনিয়োগ তহবিলও তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে চলতি বছর ৫০০ মিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়েছে ইইউ।

এসব দোলাচলের মধ্যেই, জার্মান রাডার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সেরেছে ফ্লেমিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাতা ইউক্রেনের ফায়ার পয়েন্ট। ইউরোপের জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করবে এই দুই প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের শেষে এই ডিফেন্স সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে তারা।

এদিকে রাশিয়ান কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়ার জবাবে রোমানিয়ার সব কনসাল জেনারেলকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে যেকোনো সময় যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় ন্যাটোর ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক বা পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

এসএস