জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাবে উত্তপ্ত ইউরোপ; এল নিনো নয়, দাবদাহের কারণ ওমেগা ব্লক

উত্তপ্ত ইউরোপ
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

এল নিনো নয়, বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি- ওমেগা ব্লকের কারণেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল। এছাড়া আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, কার্বন নিঃসরণসহ নানা কারণেও বাড়ছে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ। এদিকে হিটওয়েভের প্রভাবে শুধু ফ্রান্সেই গেল এক সপ্তাহে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

দিন কিংবা রাত, তাপমাত্রার ঊর্ধ্বমুখী পারদে গেল কয়েকদিন ধরেই নাকাল পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের জনজীবন। এরইমধ্যে হিটওয়েভ ও লেকে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানিতে। এছাড়া অস্বাভাবিক গরমের কারণে যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চলমান হিটওয়েভের জন্য অনেকে প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ক্ষতিকর জলবায়ু পরিস্থিতি আর চক্র ‘এল নিনো’ কে দায়ী করলেও, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি যা ওমেগা ব্লক নামে পরিচিত, এর প্রভাবে উষ্ণ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিক বর্ণ ওমেগা বিন্যাসের এই আবহাওয়া প্যাটার্নটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে উষ্ণ বাতাস টেনে আনে ও দীর্ঘ সময় ধরে গরম বাতাস আটকে রাখে, ফলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। প্যাটার্নটি সাধারণত ৩ থেকে ১০ দিন বা অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়। এর প্রভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে থাকে।

লন্ডন ইম্পিরিয়াল কলেজের আবহাওয়া গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ‘ওমেগা ব্লকের কারণেই চলমান তাপপ্রবাহ। এছাড়াও, মনুষ্যসৃষ্ট কারণেও তাপপ্রবাহ তীব্র হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নিঃসরণের জন্য তাপমাত্রার পারদ বাড়ছে বলেও মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এখনই সতর্ক না হলে, সামনের দিনগুলোতেও ইউরোপবাসী ঘন ঘন হিটওয়েভের সাক্ষী হবে বলেও আগাম পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তীব্র দাবদাহ মোকাবিলায় দেশগুলোকে সবুজায়নের প্রতিও জোর দেয়ার আহ্বান জানান তারা।

এরমধ্যেই, বর্তমান হিটওয়েভকে ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা করেছেন ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেতেও- ফ্রঁস। সে বছর ইউরোপজুড়ে অব্যাহত ১৬ দিনের অস্বাভাবিক গরমে অতিরিক্ত ৮০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।

তবে এবারের দাবদাহে ফ্রান্সে গেল এক সপ্তাহে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক। তবে শনিবারের এক পশলা বৃষ্টির পর ফ্রান্সের কিছু অংশে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা কমলেও, গরম থেকে একেবারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ফ্রান্সবাসী। হিটওয়েভের প্রভাব আরও অন্তত ১০ দিন থাকবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে অব্যাহত গরমের মধ্যেই ইলেক্ট্রনিক ব্রেসলেটের মাধ্যমে ইতালির রোমের বয়স্কদের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন একদল সমাজকর্মী। দূর থেকে বয়স্কদের নিয়মিত হার্টবিট মাপা, ঘুমের ধরণ পর্যবেক্ষণসহ সার্বিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। আর এতে খুশি বয়স্করা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এটা আমাকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেয়। আমি একা মানুষ। গরমের এই সময়টাতে এই ব্রেসলেটটিই আমার সঙ্গী।’

গেল বছর রোমের পৌরসভা সহায়তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে শহরের অন্তত ৭০০ বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে এই ইলেকট্রিক ব্রেসলেট প্রদান করা হয়।

এসএস