গতকাল (শুক্রবার, ২০ মার্চ) দেয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত হয়েছে। এ কারণে বড় পরিসরের সামরিক কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘চলমান অভিযান সম্পন্ন হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।’ বর্তমানে তৃতীয় সপ্তাহ চলছে এবং মার্কিন বাহিনী ‘অসাধারণ কাজ করছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, তেলের বাজারে চাপ কমাতে ইরানি তেলের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে। এতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আরও পড়ুন:
তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সৌদি আরব ও ইসরাইলের ওপর নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে ২০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। ইসরাইলও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে।
তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগার ও কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
বিশ্বের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের বেশি হয়েছে। সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তারা শত্রুপক্ষের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছেন। নওরোজ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের জনগণের ঐক্যই এই সাফল্যের মূল শক্তি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন দেখছেন না, তবে আলোচনায় আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনা ওই অঞ্চলের দিকে পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা; এই দুইয়ের সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা।





