চুক্তি ছাড়াই আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এরজন্য কোনো ধরনের চুক্তিরও প্রয়োজন হবে না বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই দাবি করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাচ্ছে না তেহরান।’ এদিকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, এরই মধ্যে মনোবল ভেঙে গেছে ইরানের সামরিক বাহিনীর। এদিকে, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ার পরিকল্পনা করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরান যুদ্ধে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, কিছু সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশটির বিমান ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা গুড়িয়ে দেয়া। যার বেশিরভাগই এরই মধ্যে অর্জন করেছে ওয়াশিংটন।

একই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় ইরান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদেরকে প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশটি পুনর্গঠনে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে। তাদের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।’

এমন অবস্থায় ইরান যুদ্ধে নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। এর আগে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সামরিক অভিযান দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করারও প্রয়োজন হবে না।

আরও পড়ুন:

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ করবে যুক্তরাষ্ট্র আর তারা মুখ থুবড়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ দেশ। উন্মান খামেনির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য পথে যেতে হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থাকেও উৎখাত করা হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা যুক্তিবাদী, উগ্রপন্থি নয়।’

চলমান যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় যাচ্ছে না তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একবিন্দু আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া আলোচনায় বসবে না তার দেশ।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, যুদ্ধে এরই মধ্যে মনোবল ভেঙে পড়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর। ইরানকে দ্রুত শান্তি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হলো মার্কিন যুদ্ধবিমান বহনকারী তৃতীয় রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ অভিযানের অংশ ছিলো এ রণতরী।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ বন্ধ ও অস্ত্রবিরতির আলোচনার মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে সব পক্ষ। কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের ড্রোন হামলায় ভয়াবহ আগুন লাগে। কাতার উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি জ্বালানি ট্যাংকার। সৌদি আরব ও বাহরাইনে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, ইরানি হামলার সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে দিক্বিদিক ছুটতে শুরু করে ইসরাইলিরা।

ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এছাড়া ইরানের একটি ইস্পাত এবং ওষুধ কারখানায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে ধ্বংস হয়ে গেছে ওষুধ কারখানার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ। রাজধানী তেহরানেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

ইরানের হুমকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ার পরিকল্পনা করেছেন নেতানিয়াহু। তবে কোন কোন দেশ এতে জড়িত, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরাইল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই জোটকে শক্তিশালী করেনি। বরং ইরানের অভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোটও গড়ে তুলেছে ইসরাইল। এ বিষয়ে বিস্তারিত শিগগিরই সবার সামনে তুলে ধরা হবে।’

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের উদ্যোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। সংঘাত এড়িতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পাঁচ-দফা উদ্যোগও পেশ করেছে উভয় পক্ষ।

জেআর