যুদ্ধে ইরানের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। ওমান ও ইরানের সামুদ্রিক অঞ্চলে অবস্থিত সরু এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এতে তীব্র সংকটে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো।
গত সপ্তাহে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরশীল নয়। বরং যাদের প্রয়োজন এটি সচলে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। তবে পরক্ষণেই ভোল পাল্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ চালু না করলে তেহরানের সব বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সেতু নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। যদিও ট্রাম্পের কোনো হুমকিকেই আমলে নিচ্ছে না ইরান।
এদিকে, ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে এশিয়ার দেশগুলো। সম্প্রতি ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপিন্সসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ নিরাপদে পারাপারের অনুমতি পেয়েছে। চীনের জাহাজগুলোও এই পথ ব্যবহার করছে। যদিও এসব চুক্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে সংশয়ে বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:
এবার হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজের ওপর শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধে নিজেকে জয়ী দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এই প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখান থেকে শুল্ক আদায় করা হবে। এদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। যুদ্ধের পর এই জলপথটি তেহরানের স্বার্থ রক্ষা করে পরিচালিত হবে।
হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে বৈঠক করেছেন ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের বিশেষজ্ঞরাও। হরমুজ প্রণালি এ দুই দেশের সীমান্তবর্তী।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌচলাচল রক্ষার একটি প্রস্তাবের ওপর আজ (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল) ভোট হচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি বাহরাইনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি আনা হয়। তবে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন রাশিয়া, চীন ও অন্যান্যদের বিরোধিতায় এরই মধ্যে বাধ্যতামূলক বলপ্রয়োগের বিষয়টি প্রস্তাব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় কাতারের ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এর আগে ইরানের অনুমতি নিয়ে কাতারের দুটি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজের দিকে আসলে তা আটকে দেয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এরপরই ট্যাংকার দুটি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি বাজার অস্থিরতার পাশাপাশি শিল্প খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম।





