হরমুজের স্বচ্ছ জলরাশির ভাঁজে ভাঁজে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থের খেল। বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারকে সবসময় স্থিতিশীল করে রাখা রাখা নৌরুটটি, ইরান যুদ্ধের পর থেকেই ভূ- রাজনীতির হট টপিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার ট্রাম্পের দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী, হরমুজসহ ইরানের সব নৌবন্দর অবরোধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এটি নিশ্চিতে জলসীমায় ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরমুজ পারি দিয়েছে ‘রিচ স্টারি’ নামে চীনের মালিকানাধীন নৌযান। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক ও কেবলা খবরটি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু হামলার শঙ্কায় নৌপথটি দিয়ে বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল স্থগিত রেখেছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে হরমুজ ইস্যুতে এখনও জারি রয়েছে কথার লড়াই। জলসীমাটি স্থবিরের জন্য ইরানকে দায়ীকে করে দেশটির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলেছেন জেডি ভ্যান্স।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ নিয়ে আলোচনায় গেম খেলেছে ইরান। এটা অগ্রহণযোগ্য। আমরা চাই হরমুজ পুরোপুরি সচল হোক।’
তবে ট্রাম্পের অবরোধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে বিশ্ব মোড়লরা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পর বেইজিং ইরানের নৌ-বন্দর অবরোধকে বিপজ্জনক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধানের কণ্ঠেও হরমুজ অবরোধের নিন্দা।
আরও পড়ুন:
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, ‘সংঘাতের কারণে জলসীমা প্রবেশ ও প্রস্থানে জাহাজগুলো ভয় পাচ্ছে। তবে সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়ার এখতিয়ার নেই। হরমুজ সচলে আমরা জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’
এছাড়াও হরমুজ অবরোধ ইরানের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। আর নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
তবে ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধ কার্যকরের পরও বিশ্ববাজারে কিছুটা কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের নিচে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের মাঝেও গেল মার্চ- এপ্রিলে ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করেছেন ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী।





