কাতারে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স সিএনএনকে জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে তারা সংযমের সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করে চলেছে। ইরানী বাহিনীর হুমকি থেকে সেনাদের রক্ষা করতে মার্কিন বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক এই হামলা চালায়। আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মাইন পাতার উদ্দেশে আসা এই সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস শহর এবং সিরিক ও জাস্কের নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণগুলোর স্থান ও উৎস এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
এছাড়া আরও কিছু ইরানি সংবাদ মাধ্যম- পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি ড্রোন ইরানি বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে খবর দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনায় ইরানের তরফে এখনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে যুদ্ধ বন্ধ ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারে অবস্থান করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্পিকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। ইরানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি আংশিক মীমাংসায় সম্মত হলেও চুক্তি নিশ্চিত নয়।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ‘ইরানি জাতির ভূ-রাজনীতির বিজয়ের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। পারমাণবিক ইস্যুর মতো আমরা এটিকে কখনোই আলোচনায় আনবো না। মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া হলেও ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার অধীনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত হবে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধের অংশ হিসেবে তারা গত ছয় সপ্তাহে ১০০টি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে পাঠিয়ে দেয়ার মাইলফলকে পৌঁছেছে। এছাড়া চারটি জাহাজকে অচল করেছে এবং ২৬টি মানবিক সাহায্যবাহী জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রায় এক মাস পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে শান্তি চুক্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করবে তেহরান।





