২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয় মার্কিন মিত্র দেশটি। হুমকিতে পড়ে দুবাইয়ের জনপ্রিয় পর্যটন শিল্প।
এমন পরিস্থিতিতে আর হামলা না চালানোর শর্তে ইরানকে শত শত কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইতোমধ্যে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি ডলার দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার সূত্রের বরাতে এই খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত আসতেই এমন খবর সামনে এলো।
এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছে জব্দকৃত ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদের অংশ কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এ অর্থ ফেরত না দিলে কোনো চুক্তি হবে না বলে সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দেয় তেহরান। এদিকে সূত্রের দেয়া তথ্য বলছে, ইরানকে মোট দু’হাজার কোটি ডলার দিতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এ অর্থ আমিরাতের নিজস্ব; নাকি আমিরাতের ব্যাংক বা অন্য কোথাও আটকে থাকা ইরানেরই অর্থ, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
যুদ্ধের তথ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় মার্কিন মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ৪ মে’র পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আর হামলা চালায়নি তেহরান। দু’হাজার কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরাত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই কোনো কিছু নিশ্চিত করেনি।
বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সূত্রগুলোর কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। আমিরাতের এমনই এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তাদের দেশ পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে। এমনকি সংঘাতের প্রভাব থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে রক্ষায় মার্কিন প্রচেষ্টাকে দেশটি সমর্থন করে বলেও দাবি করা হয়। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল (শুক্রবার, ১৩ জুন) জানান, কোনো চুক্তিতে সই করলে বা বৈঠকে অংশ নিলেই ইরানের অর্থ ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র।





