হরমুজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান পাল্টাপাল্টি সংঘাতে ফের রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্য। পারস্য উপসাগরের সরু জলপথটিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজে হামলার জবাবে শনিবার ইরানের অন্তত ১৪০টি স্থাপনায় মুহুর্মুহু হামলা চালায় ওয়াশিংটন। জবাবে হরমুজ সাময়িকভাবে বন্ধ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
শনিবার (১১ জুলাই) হামলার রেষ কাটতে না কাটতেই গতকাল (রোববার, ১২ জুলাই) তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক, খুজেস্তান ও কেশম দ্বীপের একাধিক স্থাপনায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটায় ওয়াশিংটন। পরে এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল জানায়, হরমুজে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত ও জলপথটিতে চলাচলকারী নৌযানগুলোতে ইরানের হামলার সক্ষমতা ভেঙে দিতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিলো, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র।
আরও পড়ুন
মার্কিন হামলার জবাব দিতে বিলম্ব করেনি ইরানও। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এতে মদদ না নিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।
আর ইরান হরমুজ বন্ধের ঘোষণা দিলেও ট্রাম্পের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সচল রয়েছে জলপথটি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের নেতিবাচক ছাপ পড়েছে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে। ৪ শতাংশ বেড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর দাম আরও বাড়বে বলে শঙ্কা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।





