ভুয়া দাবি খণ্ডন করতেই মেজাজ হারিয়ে মাঝপথে সাক্ষাৎকার ছাড়লেন ট্রাম্প

উপস্থাপকের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প
উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

নির্বাচনে ‘কারচুপি’ এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার ঘটনা নিয়ে নিজের দেয়া মিথ্যা দাবি খণ্ডন করায় মেজাজ হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি’র জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’র সাক্ষাৎকার চলাকালীন সঞ্চালকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মাঝপথেই স্টুডিও ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

গতকাল (রোববার, ৭ জুন) অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসের একটি খামারবাড়িতে গত শুক্রবার কৃষকদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্পের এ সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার শিকার দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল চেয়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ এ তহবিল গঠনে প্রথমে সম্মতি দিলেও আইনি চ্যালেঞ্জ এবং খোদ রিপাবলিকান সিনেটরদের বিরোধিতার মুখে কর্মকর্তারা পিছু হটেন। সাক্ষাৎকারে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার এ তহবিল নিয়ে প্রশ্ন করতেই ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

উপস্থাপক নির্দিষ্টভাবে জানতে চান, ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা ১৭২ জন ব্যক্তি এ অর্থের যোগ্য হবেন কি না। ট্রাম্প সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে উল্টো দাবি করেন, এফবিআই এজেন্টরাই দাঙ্গাকারীদের ক্যাপিটল হিলের ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কঠোর সাজার ভয়েই অনেকে দোষ স্বীকার করেছেন।

উপস্থাপক ওয়েলকার তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এ দাবি নাকচ করে মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন বিচার বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের তদন্ত অনুযায়ী এফবিআই এজেন্টরা বিক্ষোভকারীদের ভেতরে ডেকে নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তখন পাল্টা যুক্তিতে ট্রাম্প বলেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ওই মানুষগুলো শেষ হয়ে গেছে। তাদের অনেকেরই ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং গত সপ্তাহের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনও ভোটগণনা চলার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, ভোটগণনা শেষ করতে কয়েক দিন সময় লাগাই কারচুপির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

উত্তরে উপস্থাপক জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুসারে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পোস্টমার্ক থাকা মেইল ব্যালট গণনার জন্য এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নেয়া যায় এবং ট্রাম্পের এ দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। ওয়েলকার যখন বলেন, ‘কিন্তু সেটা তো প্রমাণ নয়’; তখনই ট্রাম্প এনবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন।

প্রায় চার মিনিট ধরে চলা এমন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে বিরক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপস্থাপক ওয়েলকারকে ‘কূটবুদ্ধির বা বোকা’ মানুষ বলে আক্রমণ করেন। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি হয় অত্যন্ত কূটবুদ্ধির, না হলে আস্ত বোকা। আর নয়, অনেক হয়েছে। এবার এখানেই শেষ করা যাক। ধন্যবাদ, ডার্লিং। ভালো কাটুক সময়।’

এই বলেই ট্রাম্প তার গায়ের মাইক্রোফোনটি খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং আসন ছেড়ে উঠে খামারবাড়ির ভেতরে তৈরি অস্থায়ী স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৫০ মিনিটের এই সাক্ষাৎকার চলাকালীন অনবরত ভারী বৃষ্টির শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।

সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই কৃষকদের একটি গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন ট্রাম্প এবং সেখানে সাংবাদিকদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কথা স্বীকারও করেন। তবে নিজের এই মেজাজ হারানোর পেছনে উপস্থাপকের যৌক্তিক প্রশ্ন নয়, বরং আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছিল তো, তাই ওদের ওপর একটু রেগে গিয়েছিলাম। ওদের আচরণে আমি খুশি হতে পারিনি। তবে আমাদের সময়টা ভালোই কেটেছে।’

এ ঘটনার পর এনবিসি’র মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এনএইচ